Showing posts with label VII. Show all posts
Showing posts with label VII. Show all posts

Sunday, August 5, 2018

Time And Motion Part - 2

Time and Motion
ত্বরণের ধারণা (Concept of Acceleration):
কোনো বস্তু যদি অসম বেগ নিয়ে, অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে যদি তার বেগের মান পরিবর্বাতিত হয় অর্থাৎ বাড়ে বা কমে অথবা বেগের মান একই থাকলেও যদি অভিমুখ পরিবর্তিত হয় বা বেগের মান ও অভিমুখ দুটিই পরিবর্তিত হয়, তখন ওই বস্তুর বেগ অসম হয়। বেগের এই অসমতার মাত্রা অর্থাৎ একক সময়ে কতটা বেগের পরিবর্তন হল, অর্থাৎ একক সময়ে বেগ কতটা বাড়লো বা কমলো তা পরিমাপের জন্য অপর একটি ভৌত রাশির ধারণা আনতে হয়। একে ত্বরণ বা মন্দন বলে।
যদি সময়ের সাথে সাথে বেগের মান বাড়তে থাকে, তখন আমরা বলি বস্তুটিতে ত্বরণ আছে, আবার সময়ের সাথে সাথে বেগের মান যদি কমতে থাকে তখন আমরা বলি বস্তুটিতে মন্দন আছে। এই ত্বরণ ও মন্দন দুটির একই অর্থ, একটি বেগ বাড়ার সময় ব্যবহার করা হয় ও মন্দন বেগ কমার সময় ব্যবহার করা হয়।

ত্বরণ (Acceleration):
সময়ের সাথে সাথে কোনো বস্তুর বেগ যদি বাড়তে থাকে, তাহলে বস্তুটির বেগ বৃদ্ধির হারকে অর্থাৎ একক সময়ে যে পরিমাণ বেগের বৃদ্ধি ঘটে, তাকে ওই বস্তুর ত্বরণ বলে।
যেহেতু বেগের মান ও অভিমুখ দুইই আছে, তাই ত্বরণেরও মান ও অভিমুখ দুইই আছে।

ধরাযাক, \({t_1}\) সময়ে একটি বস্তুর বেগ \(u\) এবং \({t_2}\) সময়ে ওই বস্তুর বেগ বেড়ে হয় \(v\)। এখানে \(v > u\)।
এখানে বেগের পরিবর্তন = অন্তিম বেগ - প্রাথমিক বেগ

বা, \(\Delta v = v - u\)

সময়কাল = \(\Delta t = \left( {{t_2} - {t_1}} \right) = t\) (ধরি)

অর্থাৎ \(\Delta t\) সময়কালে বস্তুটির মধ্যে বেগের পরিবর্তন হয় \(\Delta v\)

এখন ত্বরণের সংজ্ঞায় পাই, বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে, তাই

ত্বরণ (Acceleration) \( = a = \frac{{\Delta v}}{{\Delta t}} = \frac{{v - u}}{{{t_2} - {t_1}}} = \frac{{v - u}}{t}\)

মন্দন (Retardation):
সময়ের সাথে সাথে যদি কোনো বস্তুর বেগ কমতে থাকে, তাহলে বস্তুটির বেগ হ্রাসের হারকে অর্থাৎ একক সময়ে যে পরিমাণ বেগের হ্রাস ঘটে, তাকে ওই বস্তুর মন্দন বলে।
যেহেতু বেগের মান ও অভিমুখ দুইই আছে, তাই মন্দনের মান ও অভিমুখ দুইই আছে।

ধরাযাক, \({t_1}\) সময়ে একটি বস্তুর বেগ \(u\) এবং \({t_2}\) সময়ে ওই বস্তুর বেগ বেড়ে হয় \(v\)।

এখানে \(v < u\)। এখানে বেগের পরিবর্তন = অন্তিম বেগ - প্রাথমিক বেগ বা, \(\Delta v = u - v\) সময়কাল = \(\Delta t = \left( {{t_2} - {t_1}} \right) = t\) (ধরি) অর্থাৎ \(\Delta t\) সময়কালে বস্তুটির মধ্যে বেগের পরিবর্তন হয় \(\Delta v\) এখন মন্দনের সংজ্ঞায় পাই, বেগ হ্রাসের হারকে মন্দন বলে, তাই মন্দন (Retardation) \( = a = \frac{{\Delta v}}{{\Delta t}} = \frac{{v - u}}{{{t_2} - {t_1}}} = \frac{{v - u}}{t}\) মন্দনকে ঋনাত্বক ত্বরণ বলার কারণ:
ধরাযাক, কোনো বস্তুর প্রাথমিক বেগ \(u\) এবং

\(t\) সময় পরে বস্তুটির অন্তিম বেগ হয় \(v\)।

এখন \(v > u\) হলে অর্থাৎ বেগের বৃদ্ধি ঘটলে ত্বরণের সংজ্ঞা থেকে পাই, বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে।

এখানে \(t\) সময়ে বেগের পরিবর্তন হয় \(\Delta v = \left( {v - u} \right)\)।

সুতরাং বস্তুটির ত্বরণ \( = a = \frac{{\left( {v - u} \right)}}{t}\)

আবার \(u > v\) হলে অর্থাৎ বেগের হ্রাস ঘটলে মন্দনের সংজ্ঞা থেকে পাই, বেগ হ্রাসের হারকে মন্দন বলে।

এখানে \(t\) সময়ে বেগের পরিবর্তন হয় \(\Delta v = \left( {u - v} \right)\)।

সুতরাং বস্তুটির মন্দন \( = a = \frac{{\left( {u - v} \right)}}{t}\)

এখন বস্তুটির ত্বরণ \( = \frac{{\left( {v - u} \right)}}{t} = - \frac{{\left( {u - v} \right)}}{t} = - \) মন্দন।
তাই মন্দনকে বস্তুর ঋনাত্বক ত্বরণ বলে।

কোনো বস্তুর গতিবেগ আছে, কিন্তু ত্বরণ নেই - এমন হতে পারে কি?
কোনো বস্তু সমবেগে সরলরেখা বরাবর চলতে থাকলে, ওই অবস্থায় বস্তুটির বেগের মান ও অভিমুখ কোনোটিই পরিবর্তিত হয় না। এই অবস্থায় বস্তুটির বেগ থাকলেও তার ত্বরণ বা মন্দন থাকে না।

কোনো বস্তুর গতিবেগ না থাকলেও তার ত্বরণ কি থাকতে পারে?
কোনো বস্তুর গতিবেগ না থাকলেও তার ত্বরণ থাকতে পারে।
(1) যখন কোনো বস্তুকে উপরের দিকে ছোঁড়া হয়, অভিকর্ষের টানে বস্তুটির বেগ ক্রমশ কমতে থাকে, এবং একটি সর্বোচ্চ উচ্চতায় বস্তুটির বেগ শূন্য হয়ে যায়। তবুও এই সময় বস্তুটির উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ কাজ করে। এই অভিকর্ষজ ত্বরণের জন্যেই বস্তুটি আবার নীচের দিকে নামতে থাকে।
অর্থাৎ, উপরের দিকে ছোঁড়া কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উচ্চতায় বস্তুটির বেগ শূন্য হলেও তার ত্বরণ থাকে। এই ত্বরণের মান পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের মানের সমান হয়।

(2) কোনো সরল দোলকের গতির ক্ষেত্রে, দোলক পিন্ডের সর্বোচ্চ অবস্থানে তার বেগের মান শূন্য হলেও তার ত্বরণ থাকে, যার প্রভাবে দোলক পিন্ডটি পুনরায় দোলন শুরু করে।

বলের ধারণা (Concept of Force):
কোনো বস্তুর উপর বাইরে থেকে যা প্রয়োগ করে, স্থির বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন করা হয় বা করার চেষ্টা করা হয় কোনো বস্তুর আকার (Size) বা আকৃতির (Shape) পরিবর্তন করা হয় বা করার চেষ্টা করা হয়, তাকে বল বলে।
সাধারণভাবে, কোনো বস্তুর উপর টান দেওয়া বা ঠেলা দেওয়াকে আমরা বল বলি। এই বলকে দেখা যায় না। কিন্তু এই বল কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত হলে, বল প্রয়োগের ফলাফলগুলি লক্ষ্য করা যায়। এই বল প্রয়োগের ফলে নিম্নলিখিত ঘটনাগুলি দেখতে পাওয়া যায়:-

(i) কোনো স্থির বস্তুকে গতিশীল করা যায়।
(ii) কোনো গতিশীল বস্তুকে স্থির করা যায়।
(iii) কোনো গতিশীল বস্তুর গতির মান পরিবর্তন করা যায়।
(iv) বল প্রয়োগের ফলে কোনো গতিশীল বস্তুর গতির অভিমুখ পরিবর্তন করা যায়
(v) বল প্রয়োগের ফলে কোনো বস্তুর আকার ও আকৃতির পরিবর্তন করা যায়।

কোনো বস্তুর ওপর বল প্রযুক্ত হলে তার প্রভাব গুলি উল্লেখ করো:
(1) বল প্রয়োগে কোনো স্থির বস্তুকে গতিশীল করা যায়। যেমন:
মাটিতে রাখা একটু ফুটবলকে লাথি মারলে তা গড়াতে শুরু করে। আবার একটি স্থির দেওয়ালে বল প্রয়োগ করে দেওয়ালটি গতিশীল করার চেষ্টা করা হলেও, দেওয়ালটিকে নড়ানো যায় না। তাই বলা যায়, বল প্রয়োগ করে কোনো স্থির বস্তুকে গতিশীল করা হয় বা করার চেষ্টা করা হয়।
(2) বল প্রয়োগে কোনো গতিশীল বস্তুকে স্থির করা যেতে পারে। যেমন
একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় যখন ক্যাচ নেয়, তখন গতিশীল বলটিকে খেলোয়াড়টির হাত দ্বারা বল প্রয়োগ করে থামাতে পারে।
(3) বল প্রয়োগে কোনো গতিশীল বস্তুর গতির অভিমুখ পরিবর্তন করা যায়। যেমন,
ক্রিকেট খেলায় বোলারের ছোঁড়া বলকে ব্যাটসম্যান তার ব্যাটের দ্বারা বল প্রয়োগ করে বলের গতির অভিমুখ পরিবর্তন করে।


Force can change the direction
Force can change direction


(4) বল প্রয়োগে বস্তুর আকার ও আকৃতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। যেমন,
একটি রবারের বলকে মেঝের উপর রেখে, বলটির উপর হাত দিয়ে বলটিকে চাপ দেওয়া হলে, বলটির আকৃতির পরিবর্তন হবে। আবার একটি স্প্রীংএর দুইপ্রান্ত বল প্রয়োগ করে স্প্রীংটির দৈর্ঘ্য বাড়ানো বা কমানো যায়, অর্থাৎ আকার ও আকৃতির পরিবর্তন ঘটানো যায়।



Force can change its shape and Size






বল প্রয়োগের প্রভাব উদাহরণ
(1) বল প্রয়োগে কোনো স্থির বস্তু গতিশীল হতে পারে। (1) একজন সকার খেলোয়াড় বা একজন ফুটবল খেলোয়াড়, ফুটবলের উপর বা সকার বলের উপর বল প্রয়োগ করে, বলটিকে গতিশীল করতে পারে।
(2) বল প্রয়োগে কোনো গতিশীল বস্তুকে স্থির করা যায়। (2) ক্রিকেটের একজন ফিল্ডার বল প্রয়োগ দ্বারা একটি গতিশীল বলকে স্থির করতে সক্ষম হয়।
(3) বল কোনো গতিশীল বস্তুর গতির পরিবর্তন করতে পারে। (3) কোনো সাইকেল আরোহী, বায়ুর অনুকুলে গেলে বা বায়ুর প্রতিকুলে গেলে তার গতির মান পরিবর্তিত হয়ে যায়।
(4) বল কোনো বস্তুর গতির অভিমুখ পরিবর্তিত করতে পারে। (4) ক্রিকেট খেলায় একজন ব্যাটসম্যান ব্যাটের সাহায্যে বল প্রয়োগের দ্বারা বলের অভিমুখ পরিবর্তন করে।
(5) বল কোনো বস্তুর আকার ও আকৃতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। (5) একটি স্প্রীং এর দুইপ্রান্তে বল প্রয়োগের দ্বারা স্প্রীংটির আকারের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বল প্রয়োগের দ্বারা স্প্রীংটির দৈর্ঘ্য বরাবর বাড়ানো বা কমানো যায়।

প্রতিমিত বল (Balanced Force):

যদি কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত সমস্ত বলগুলির মানে ও দিকে তাদের যোগফল বা লব্ধি বল যদি শূন্য হয় তখন বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলকে প্রতিমিত বল বলে।
এই প্রতিমিত বল বস্তুর স্থির অবস্থা বা গতির অবস্থার বা গতির অভিমুখ কোনোটারই পরিবর্তন করতে পারে না অর্থাৎ স্থির অবস্থায় থাকা বস্তুর উপর প্রতিমিত বল প্রযুক্ত হলে বস্তুটি স্থিরই থাকবে আবার সরলরেখায় গতিশীল বস্তুর উপর প্রতিমিত বল প্রযুক্ত হলে তার গতিও একইরকম বজায় থাকবে, কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। মনে হবে বস্তুটির উপর কোনো বলই প্রযুক্ত হচ্ছে না

যেমন,
(1) একটি ভারী বাক্সকে একটি অমসৃণ তলের উপর উপর রেখে ঠেলার চেষ্টা করা হলে বাক্সটির উপর সামনের দিকে প্রযুক্ত বল ও বাক্স ও অমসৃণ তলের সংস্পর্শতলের মধ্যে ক্রিয়াশীল ঘর্ষণ বল দ্বারা প্রতিমিত হয় এক্ষেত্রে দুটি বলের ক্রিয়ার সৃষ্ট প্রতিমিত বলের জন্য বাক্সটিকে নড়ানো যায় না।

(2) দড়ি টানাটানি খেলায় দুটি দল একটি দড়িকে বিপরীত দিক থেকে সমান কিন্তু বিপরীতমুখী বলে টানলে দড়িটি কোনো পক্ষের দিকেই অগ্রসর হয় না বরং নিজের অবস্থানেই স্থির থাকে। এক্ষেত্রে উভয়দল দ্বারা প্রযুক্ত সমান ও বিপরীতমুখী বল দুটির ক্রিয়ায় প্রতিমিত বলের সৃষ্টি হয়।

(3) দুইজন ব্যক্তি একটি টেবিলের দুইপাশে দাঁড়িয়ে বিপরীত দিকে একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করে ঠেলার চেষ্টা করা হলে টেবিলটি কোনো দিকেই নড়বে না কারন এক্ষেত্রে দুটি সমান ও বিপরীতমুখী বলের ক্রিয়ায় টেবিলটিতে প্রযুক্ত বল প্রতিমিত হয়ে যায়।

(4) একটি ব্লককে মেঝের উপর স্থির অবস্থায় রেখে ব্লকটির উপর দুটি সমমানের বল একই রেখা বরাবর বিপরীত দিকে একই সঙ্গে প্রযুক্ত করা হলে ব্লকটির মধ্যে কোনো গতির সৃষ্টি হবে না কারণ এক্ষেত্রে ব্লকটির উপর ক্রিয়াশীল দুটি সমমানের ও বিপরীত বলের ক্রিয়ায় একটি প্রতিমিত বল সংস্থা সৃষ্টি করে।

(5) এক ব্যক্তি একটি ভর্তি ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক্ষেত্রে ব্যাগের ওজন উল্লম্বভাবে নীচের দিকে ক্রিয়াশীল আবার ব্যক্তি ব্যাগের ওপরব্যাগের ওজনের সমান ও বিপরীতমুখী একটি বল প্রয়োগ করছে এখানে ব্যাগের ওপর ক্রিয়াশীল বলগুলির লব্ধি শূন্য তাই ব্যাগের এখানে ওজন ও ব্যক্তি দ্বারা প্রযুক্ত বল একত্রে প্রতিমিত বল সংস্থা গঠন করে।


Net Force, Resultant Force

অপ্রতিমিত বল বা কার্যকর বল (Unbalanced Force):
যদি কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত সমস্ত বলগুলির মানে ও দিকে তাদের যোগফল বা লব্ধি বল যদি শূন্য না হয়, তখন বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলকে অপ্রতিমিত বল বা কার্যকর বল বলে।

এই অপ্রতিমিত বল বস্তুর স্থির অবস্থা বা গতির অবস্থার বা গতির অভিমুখ পরিবর্তন করতে পারে অর্থাৎ স্থির অবস্থায় থাকা বস্তুর উপর অপ্রতিমিত বল প্রযুক্ত হলে বস্তুটি গতিশীল হতে পারে, আবার কোনো গতিশীল বস্তুর উপর অপ্রতিমিত বল প্রযুক্ত হলে বস্তুটিকে স্থির করা যেতে পারে আবার বস্তুটির গতির অভিমুখ পরিবর্তন করা যেতে পারে বা তার গতিশীলতাও পরিবর্তন করা যেতে পারে।

যেমন,
(1) একটি ভারী বাক্সকে একটি অমসৃণ তলের উপর রেখে একটি বৃহৎ মানের বল দ্বারা টানা হলে বাক্সটি প্রযুক্ত বলের অভিমুখেই গতিশীল হয়, এক্ষেত্রে বাহ্যিক বল, বাক্স ও সংস্পর্শতলের মধ্যে ক্রিয়াশীল ঘর্ষণ বল অপেক্ষা বেশী হয়, তাই বস্তুটির উপর অপ্রতিমিত কাজ করে এবং এই অপ্রতিমিত বল প্রযুক্ত বলের অভিমুখেই হয় তাই বস্তুটি গতিশীল হতে শুরু করে।

(2) একটি টেবিলকে দুই বন্ধু মিলে একই দিকে \({F_1}\) ও \({F_2}\) মানের বল প্রযুক্ত করছে।

এক্ষেত্রে টেবিলটির ওপর প্রযুক্ত লব্ধি বল বা কার্যকর বল হল \(\left( {\overrightarrow {{F_1}} + \overrightarrow {{F_2}} } \right)\)।
তাই এখানে টেবিলটি তাদের বল প্রয়োগের অভিমুখ বরাবর গতিশীল হবে।

(3) আবার একটি টেবিলকে দুই বন্ধু মিলে বিপরীতদিকে দিকে \({F_1}\) ও \({F_2}\) মানের বল প্রয়োগ করছে।

এক্ষেত্রে \({F_1} > {F_2}\) হলে, টেবিলটির ওপর লব্ধি বা কার্যকর বল হয় \(\left( {\overrightarrow {{F_1}} - \overrightarrow {{F_2}} } \right)\)।

এক্ষেত্রে টেবিলটি \({F_1}\) বলের অভিমুখে গতিশীল হবেL

(4) আবার একটি টেবিলকে দুই বন্ধু মিলে বিপরীতদিকে দিকে \({F_1}\) ও \({F_2}\) মানের বল প্রয়োগ করছে।

এক্ষেত্রে টেবিলটির ওপর লব্ধি বা কার্যকর বল হয় \(\left( {\overrightarrow {{F_2}} - \overrightarrow {{F_1}} } \right)\)।

এক্ষেত্রে টেবিলটি \({F_2}\) বলের অভিমুখে গতিশীল হবে।

কোনো বস্তুর ওপর কার্যকর বল বা অপ্রতিমিত বল প্রযুক্ত হলে – কি কি হতে পারে?
কোনো বস্তুর ওপর অপ্রতিমিত বা কার্যকর বল বা লব্ধি বল প্রযুক্ত হলে, বস্তুটিতে ত্বরণ সৃষ্টি হয় অর্থাৎ বস্তুটিতে গতির অর্থাৎ স্থির বা গতিশীল অবস্থায় মুলত বেগের পরিবর্তন ঘটবে। যেমন,

(1) স্থির বস্তু গতিশীল হতে পারে।
(2) গতিশীল বস্তু স্থির হতে পারে
(3) কোনো গতিশীল বস্তুর গতির মান পরিবর্তিত হতে পারে।
(4) গতিশীল বস্তুর গতির অভিমুখ পরিবর্তিত হতে পারে।
(5) গতিশীল বস্তুর বেগের মান ও অভিমুখ দুইই পরিবর্তিত হতে পারে।
(6) কোনো বস্তুর আকার ও আকৃতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

কোনো বস্তুর উপর প্রতিমিত বল প্রযুক্ত হলে বস্তুটির গতির পরিবর্তন হয় না, কিন্তু আকার ও আকৃতির পরিবর্তন হতে পারে - উদাহরণ দাও।
একটি স্প্রীং নিয়ে তাকে দুহাতে সমান পরিমান পরিমান ও বিপতীতমুখী বল প্রয়োগ করলে দেখা যায় স্প্রীং টি সংকুচিত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে স্প্রীংটির উপর তার দুইপ্রান্তে সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করায় - স্প্রীংটির ওপর ক্রিয়াশীল লব্ধি বল অপ্রতিমিত বলের মান শূন্য হয়ে যায়। কিন্তু তবুও স্প্রীংটির মধ্যে দৈর্ঘ্য বরাবর বিকৃতি দেখা যায়।

বাহ্যিক বল (External Force):
কোনো বস্তুর উপর বল প্রযুক্ত হওয়ার সময় যদি বলের প্রয়োগকারী এবং বস্তু আলাদা সংস্থা হয়, সেক্ষেত্রে ওই বল বস্তুর গতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়, অর্থাৎ বস্তুটিতে ত্বরণের সৃষ্টি হয়। এই বলকে বাহ্যিক বল বলে।
এক্ষেত্রে রিকশাচালক, বাইরে অর্থাৎ মাটিতে পা রেখে রিকশাটিকে ঠেললে রিকশাটির অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। আবার চেয়ারে না বসে, মাটিতে পা রেখে চেয়ারটিকে হাত দিয়ে ঠেললে চেয়ারটির অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। অর্থাৎ কোনো বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে গেলে অবশ্যই বস্তুটিতে বাহ্যিক ও অপ্রতিমিত বল প্রযুক্ত হওয়া একান্ত জরুরী।

নিউটনের প্রথম গতিসূত্র (First Law of Newton):
বাইরে থেকে প্রযুক্ত বল দ্বারা বস্তুর অবস্থার পরিবর্তনে বাধ্য না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থাতেই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখা বরাবর চলতে থাকবে।

নিউটনের প্রথম গতিসূত্র থেকে জানা যায়:
নিউটনের প্রথম গতিসূত্র থেকে দুটি বিষয় জানা যায়।
(1) পদার্থের একটি মৌলিক ধর্ম - জাড্যের ধারণা।
(2) বলের সংজ্ঞা বা ধারণা

(1) পদার্থের একটি মৌলিক ধর্ম - জাড্য (Inertia):
নিউটনের প্রথম গতিসূত্রে বলা হয়েছে যে - কোনো জড় বস্তু যদি স্থির অবস্থায় থাকে, তাহলে বাইরে থেকে তার ওপর বল প্রয়োগ না করলে, ওই বস্তুটি নিজে ওর স্থির অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে না। অর্থাৎ স্থির বস্তুর ধর্মই হল চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকা।
আবার কোনো বস্তু যদি গতিশীল অবস্থায় থাকে, তাহলে বাইরে থেকে ওর ওপর বল প্রযুক্ত না করলে বস্তুটি নিজে থেকে তার গতিশীলতা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। অর্থাৎ গতিশীল বস্তুর ধর্মই হল চিরকাল সমবেগে সরলরেখা বরাবর চলা।
তাই কোনো বস্তুর যে ধর্মের জন্য তার স্থির বা গতিশীল অবস্থার প্রবণতা দেখাও অর্থাৎ স্থির বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তনের চেষ্টাকে বাধা দেয়, সেই ধর্মকেই ওই বস্তুর জাড্য বলে। এই কারনে নিউটনের প্রথম গতিসূত্রটিকে জাড্যের সূত্রও বলা হয়।

কোনো বস্তুর জাড্য ধর্ম আলোচনা করতে গিয়ে দেখি, কোনো বস্তুর ভর যত বেশী হয়, তার জাড্য ধর্মও োো বেশী প্রকাশ পায়। যেমন কোনো হালকা বস্তুর তুলনায় ভারী বস্তুকে স্থির অবস্থা থেকে গতিশীল অবস্থায় আনতে বা গতিশীল অবস্থা থেকে স্থির অবস্থায় আনতে অনেক বেশী বল প্রয়োগ করতে হয়। তাই কোনো বস্তুর ভর যত বেশী হবে, তার জাড্য ধর্মও তত বেশী হবে। তাই, বলা যায় কোনো জড় বস্তুর ভরই হল জাড্যের পরিমাপ।

যে ধর্মের জন্য কোনো স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদা সমবেগে গতিশীল অবস্থায় থাকতে চায়। বস্তুর এই ধর্মকে জাড্য বা জড়তা (Inertia) বলে।

পদার্থের এই জাড্য ধর্ম আবার দুইরকমের:

(1) স্থিতিজাড্য (Inertia of Rest):
অচল বা স্থির অবস্থায় থাকা জড় বস্তুর চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকার প্রবণতাকে স্থিতিজাড্য বলে।
নীম্নে স্থিতিজাড্যের কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল:

(i) কোনো স্থির গাড়ী হঠাৎ চলতে শুরু করলে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়ে। কারণ গাড়ীটি যখন স্থির ছিল, তখন যাত্রীর সমগ্র দেহও স্থির ছিল। এখন হঠাৎ করে গাড়ীটি চলতে শুরু করলে যাত্রীর নীচের অংশ (পা) গাড়ীর সঙ্গে সংলগ্ন থাকায় তা গতিশীল হয়, কিন্তু যাত্রীর দেহের উপরের অংশ স্থিতিজাড্য ধর্মের জন্য স্থির থাকতে চায়। তাই যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়ে।

(ii) একটি গ্লাসের উপর একটি কার্ড রাখা হল। ওই কার্ডের উপর একটি কয়েন রেখে কার্ডটিকে খুব জোরে টোকা দিলে কার্ডটি সরে যায়। কিন্তু কয়েনটি স্থিতিজাড্য ধর্মের জন্য আগের অবস্থানেই স্থির থাকতে চায়। ফলে কার্ডটি সরে গেলেও কয়েনটি গ্লাসের মধ্যে পড়ে যায়।


Static Inertia

(iii) চা ভর্তি একটি কাপকে হঠাৎ করে সামনের দিকে টানা হলে, কিছু পরিমান চা পিছনের দিকে ছিটকে পড়ে। কারণ, কাপটিকে সামনের দিকে টানলে কাপ ও কাপের নীচের অংশের চা গতিশীল হয়। কিন্তু কাপের উপরের অংশের চা স্থিতিজাড্য ধর্মের জন্য তখনও স্থির অবস্থায় থাকতে চায়। ফলে কিছু পরিমাণ চা পিছনের দিকে ছিটকে পড়ে।

(iv) ভারী কোট বা কম্বলের উপর যে ময়লা বা ধূলিকণা জমে, তা সূতোর ফাঁকে ফাঁকে আলগাভাবে আটকে থাকে। এই সব জমে থাকা ময়লা ঝেড়ে থেলতে কোটটিকে ছড়ি দিয়ে বারবার আঘাত করা হয়। কোটের ওপর ছড়ি দিয়ে আঘাত করলে কোটটি সরে যায় (গতিশীল হয়), কিন্তু ময়লা, ধূলিকণা ও অন্যান্য কণা তার স্থিতিজাড্য ধর্মের জন্য একই স্থানে থাকতে চায়। ফলে ধূলিকণা ও অন্যান্য ময়লা কোনো অবলম্বন না পেয়ে কোট থেকে পৃথক হয়ে নীচে পড়ে যায়।


(2) গতিজাড্য (Inertia of Motion):
কোনো গতিশীল বস্তুর সমগতিতে সরলরেখা বরাবর গতিশীল অবস্থা বজায় রাখার প্রবণতাকে গতিজাড্য বলে।
যেমন,

(i) কোনো চলন্ত গাড়ী হঠাৎ করে থেমে গেলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কারণ গাড়ীটি যখন গতিশীল ছিল, গাড়ীর সঙ্গে সংলগ্ন যাত্রীর দেহও গতিশীল ছিল। এখন গাড়ীটি হঠাৎ থেমে গেলে, গাড়ীর সঙ্গে সংলগ্ন ব্যাক্তির নীড়ের অংশ (পা) স্থির হয়ে যায়, কিন্তু যাত্রীর উপরের অংশ গতিজাড্য ধর্মের জন্য (মাথা) তখনো গতিশীল অবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করে। তাই যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

(ii) একটি ঘূর্ণায়মান বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ অফ করে দিলেও পাখাটি বেশ কিছুক্ষণ ঘুরতে থাকে। কারণ সুইচ অন থাকা অবস্থায় পাখাটি ঘূর্ণায়মান ছিল। এখন সুইচ অফ করলে, পাখাটি তার গতিজাড্য ধর্ম বজায় রাখতে চেষ্টা করে। তাই সুইচ অফ করলেও পাখাটি আরও বেশ কিছুক্ষন ঘোরে স্থির হয়।

(iii) কোনো অ্যাথলিট, লংজাম্প দেওয়ার সময় দূর থেকে কিছুটা দৌড়ে আসে। কারণ দূর থেকে কিছুটা দৌড়ে আসলে ওই অ্যাথলিটের মধ্যে একটি গতিজাড্য ধর্মের সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে সে, সাধারণের তুলনায় সীমা নির্দেশক ট্র্যাক থেকে অনেকটা বেশি লাফাতে পারে।

(iv) সমবেগে চলন্ত কোনো গাড়ীর মধ্যে কোনো ব্যক্তি যদি একটি বলকে সোজা উপরের দিকে ছুঁড়ে তাহলে কিছুক্ষণ পর বলটি আবার তার হাতেই এসে পড়ে, যদিও এই সময়ের মধ্যে গাড়ীটি সামনের দিকে কিছুটা এগিয়ে যায়। কারণ, বলটিকে উপরের দিকে ছোঁড়া হলে, গতিজাড্য ধর্মের জন্য বলটিও তার গতিবেগ বজায় রাখে, ফলে একই সময়ে বল ও যাত্রী একই পথ অতিক্রম করে, তাই বলটি আবার ব্যক্তির হাতেই এসে পড়ে।

(v) কোনো চলন্ত ট্রামগাড়ী থেকে আমরা যখন নামি, তখন পেছন দিকে হেলে নামি। কারণ চলন্ত গাড়ীতে থাকার সময় আমাদের দেহ ট্রামের সঙ্গেই গতিশীল থাকে। গাড়ী থেকে মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পা মাটিতে স্পর্শ করে এবং পা স্থির হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেহের উপরের অংশ গতি-জাড্য ধর্মের জন্য তখনও গতিশীল অবস্থায় থাকতে চায় এবং দেহের উপরের অংশ সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
এখন পেছনের দিকে হেলে না নামলে আমরা সামনের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়তে পারি। এটা আটকানোর জন্য পেছন দিকে হেলে নামতে হয়। এর ফলে দেহের উপরের অংশ কিছুদুর এগিয়ে গিয়ে স্থির হয়ে যায়।, ফলে সামনের দিকে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

ভরবেগের ধারণা (Concept of Momentum):
কোনো গতিশীল বস্তুর ভর ও তার গতিবেগের সমন্বয়ে ওই বস্তুর মধ্যে যে গতীয় ধর্মের সৃষ্টি হয় তাকে ভরবেগ বলে। কোনো বস্তুর ভর \(m\) এবং তার গতিবেগ \(v\) হলে, ওই বস্তুর ভর ও বেগের গুনফল দ্বারা তার ভরবেগের পরিমাপ করা হয়।
অর্থাৎ ভরবেগ (Momentum) =ভর \( \times \) বেগ = \(m \times v\)

বল প্রয়োগের দ্বারা কোনো বস্তুর গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো যায়। ধরাযাক দুটি আলাদা ভরের বস্তু স্থির অবস্থায় আছে। এখন ওই দুটি বস্তুর ওপর একই পরিমাণ বল প্রয়োগ করে বস্তু দুটিতে সম পরিমাণ বেগ উৎপন্ন করা যায় না। এক্ষেত্রে বস্তু দুটিতে সম পরিমাণ বেগ উৎপন্ন করতে হলে হালকা বস্তুটিতে কম বল প্রয়োগ করতে হবে এবং অপেক্ষাকৃত ভারী বস্তুটিতে বেশী বল প্রয়োগ করতে হবে। তাই এক্ষেত্রে বলা যায়, কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে বস্তুর বেগের যে পরিবর্তন ঘটে, তা বস্তুটির ভরের উপর নির্ভরশীল। কোনো গতিশীল বস্তুর ভর ও বেগের সমন্বয়ে ওই বস্তুর মধ্যে এক ধরণের গতীয় ধর্মের উদ্ভব হয়, যাকে আমরা প্রকাশ করার জন্য ভরবেগের ধারণা নিয়ে আসি।
কোনো গতিশীল বস্তুর ভরবেগ ভালোভাবে বুঝতে হলে নিম্নলিখিত ঘটনাগুলি বোঝার চেষ্টা করি।

(1) ধরাযাক, একটি প্লাস্টিকের তৈরি হালকা রোলার তোমার চলার গতিপথে একটি নির্দিষ্ট মানের বেগ নিয়ে ধেয়ে আসছে। এই অবস্থায়, আমরা সহজেই ওই হালকা রোলারটিকে হাত দিয়ে বল প্রয়োগ করে থামাতে পারি। কিন্তু ধরাযাক, হুবহু একইরকমের একটি নিরেট লোহার তৈরি রোলার, ওই একই নির্দিষ্ট মানের বেগ নিয়ে এগিয়ে আসছে। এই অবস্থায় তোমার পক্ষে কি সম্ভব? যে – ওই লোহার তৈরি রোলারটিকে হাতের মাধ্যমে আটকে স্থির অবস্থায় আনা?
উত্তরটা নিশ্চই না। কারণ নিরেট লোহার রোলারটিতে তার অতিরিক্ত পরিমাণ ভর ও বেগের সমন্বয়ে একটি গতিশীল ধর্মের উদ্ভব হয় যা আমরা এক্ষেত্রে ভরবেগ বলি। এক্ষেত্রে হালকা প্লাস্টিকের রোলারটির ভরবেগ খুব কম হওয়ায় আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় শুধুমাত্র হাত দিয়ে আটকে দেওয়া। কিন্তু নিরেট লোহার রোলারটির ভরবেগ অনেক বেশী হওয়ায়, তাকে স্থির অবস্থায় আনতে অনেক বেশী পরিমান বল প্রয়োগের প্রয়োজন। তাও এটিকে আমরা শুধুমাত্র হাতের দ্বারা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে থামাতে পারিনা।

(2) যেমন, একটি খালি ট্রাক ও একটি মালবোঝাই ভারী ট্রাক যদি একই বেগ নিয়ে চলে তবুও, ভারী ট্রাকটির ভরবেগ বেশী হওয়ায়, তাকে থামাতে বেশী পরিমান বল প্রয়োগ করতে হবে, খালি ট্রাকের তুলনায়। আমার একই ভরের দুটি ট্রাকের মধ্যে একটি বেগ বেশী এবং অন্যটির বেগ কম। তখনো যার ভরবেগ বেশী তার গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বেশী বল প্রয়োগ করতে হবে এবং যার ভরবেগ কম তার একই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে কম বল প্রয়োগ করলেই হবে।

(3) যে বস্তুর ভরবেগ বেশী, তার গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বেশী পরিমান বল প্রয়োগ করতে হবে এবং যে বস্তুর ভরবেগ কম, তার গতিশীল অবস্থার একই পরিমাণ পরিবর্তন ঘটাতে কম বল প্রয়োগ করতে হবে।

একটি মালবাহী ট্রাক ও একটি খালি ট্রাক একই বেগ নিয়ে চলছে। ট্রাক দুটির গঠনও হুবহু একই। কোনটিকে থামাতে বেশী পরিমাণ বল প্রয়োগ করতে হবে?
এখানে ট্রাকদুটির গঠন হুবহু এক হলেও মালভর্তি ট্রাকটির ভর বেশী। কিন্তু উভয়ের বেগ একই হওয়ায়, মালবাহী ট্রাকটির ভরবেগ বেশী। এখন ট্রাকদুটিকে থামাতে অর্থাৎ স্থির অবস্থায় আনতে হলে, অর্থাৎ একই পরিমাণ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে, মালবাহী ট্রাকটিতে বেশী বল প্রয়োগ করতে হবে। কারণ মালবাহী ট্রাকটির ভরবেগ বেশী। নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রে এটাই বলা হয় যে, কোনো বস্তুর ভরবেগ পরিবর্তনের হার বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক। এখানে মালবাহী ট্রাকটির ভরবেগের পরিবর্তনের হার, খালি ট্রাকটির ভরবেগের পরিবর্তনের হারের থেকে বেশী। তাই মালবাহী ট্রাকে বেশী বল প্রয়োগ করতে হবে।

ভরবেগের CGS ও SI পদ্ধতিতে একক:

ভরবেগের CGS একক:
ভরবেগ = ভর\( \times \)বেগ = \(m \times v\)
তাই CGS পদ্ধতিতে ভরবেগের একক = ভরের একক \(m \times v\) বেগের একক
= ভর \( \times \) বেগ
= গ্রাম \( \times \) সেমি/সেকেন্ড
= গ্রাম.সেমি/সেকেন্ড
= \(gm.cm/s\)
= \(gm.cm.{s^{ - 1}}\)

ভরবেগের SI একক:
ভরবেগ = ভর\( \times \)বেগ = \(m \times v\)
তাই CGS পদ্ধতিতে ভরবেগের একক = ভরের একক \(m \times v\) বেগের একক
= ভর \( \times \) বেগ
= কিগ্রা \( \times \) মিটার/সেকেন্ড
= কিগ্রা.মি/সেকেন্ড
= \(kg.m/s\)
= \(kg.m.{s^{ - 1}}\)

নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্র (Second Law of Motion):
কোনো বস্তুর ভরবেগ পরিবর্তনের হার, বস্তুর ওপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক। প্রযুক্ত বল যেদিকে ক্রিয়া করে, ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই হয়।

নিউটনের এই দ্বিতীয় গতিসূত্র থেকে কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের পরিমাপ নির্ণয় করা যায়।
\(m\) ভরের কোনো বস্তুতে a ত্বরণ সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় বলের মান হয়:
\(F = m \times a = ma\)
অর্থাৎ বল=ভর\( \times \)ত্বরণ = \(F = m \times a = ma\)

CGS ও SI পদ্ধতিতে বলের পরম একক:

বলের CGS একক:
বল = বস্তুর ভর\( \times \)ত্বরণ = \(m \times a = ma\)
তাই বলের একক = বস্তুর ভরের একক\( \times \)ত্বরণের একক
= গ্রাম\( \times \) \(সেমি/{সেকেন্ড^2}\)
= \(gm.cm/{s^2}\)
= \(gm.cm.{s^{ - 2}}\)
= \(dyne\)

\(1\) \(dyne\) বলের সংজ্ঞা:
\(1gm\) ভরের কোনো বস্তুর ওপর যে পরিমাণ বল প্রযুক্ত হলে, ওই বস্তুতে ঠিক \(1cm/{s^2}\) ত্বরণ সৃষ্টি হয়, সেই পরিামণ বলকে \(1dyne\) বল বলে।

বলের SI একক:
বল = বস্তুর ভর\( \times \)ত্বরণ = \(m \times a = ma\)
তাই বলের একক = বস্তুর ভরের একক\( \times \)ত্বরণের একক
= কিগ্রা\( \times \) \(মি/{সেকেন্ড^2}\)
= \(kg.m/{s^2}\)
= \(kg.m.{s^{ - 2}}\)
= \(newton\)

\(1\) \(newton\) বলের সংজ্ঞা:
\(1kg\) ভরের কোনো বস্তুর ওপর যে পরিমাণ বল প্রযুক্ত হলে, ওই বস্তুতে ঠিক \(1m/{s^2}\) ত্বরণ সৃষ্টি হয়, সেই পরিামণ বলকে \(1newton\) বল বলে।

বলের CGS ও SI এককের মধ্যে সম্পর্ক:
\(1N = 1kg.m/{s^2}\)
\( = 1kg \times 1m/{s^2}\)
\( = {10^3}gm \times {10^2}cm/{s^2}\)
\( = {10^5}gm.cm/{s^2}\)
\( = 1dyne\)

নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র (Third Law of Motion):
প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীতমুখী একটি প্রতিক্রিয়া আছে।

ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া (Action and Reaction): একটি বস্তু অপর একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে, প্রথম বস্তু দ্বারা দ্বিতীয় বস্তুর ওপর প্রযুক্ত বলকে ক্রিয়া বলে।
সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় বস্তুটিও প্রথম বস্তুর ওপর সমান এবং বিপরীতমুখী একটি বল প্রয়োগ করবে। এই দ্বিতীয় বস্তু দ্বারা প্রথম বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলটিকে প্রতিক্রিয়া বলে।

যেমন, একটি টেবিলের উপর হাত দিয়ে খাড়াভাবে বল প্রয়োগ করা হলে, এবং এই বল কার্যকরী অপ্রতিমিত বল হলে, নিউটনের প্রথম ও দ্বিতীয় সূত্রানুযায়ী টেবিলটির মধ্যে ত্বরণ সৃষ্টি হবে। ফলে টেবিলটি প্রযুক্ত বলের অভিমুখে চলতে থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, টেবিলটি প্রযুক্ত বলের অভিমুখে চলে না। হাত দিয়ে অনুভব করা যায় যে, টেবিলটিও বাধা দিচ্ছে অর্থাৎ হাতের উপর সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করছে। এখন প্রযুক্ত বল বাড়ালে বিপরীতমুখী বলটিও বাড়ে এবং হাতও স্থির থাকে। এক্ষেত্রে উপরের উদাহরণে, হাত, টেবিলের উপর খাড়াভাবে যে বল প্রয়োগ করে সেটি হল ‘ক্রিয়া’, সঙ্গে সঙ্গে টেবিলও হাতের উপর বিপরীত দিকে যে সমান বল প্রয়োগ করলো তা হল প্রতিক্রিয়া। এখানে ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সমান হওয়ায়, টেবিলটির কোনো সরণ হয় না।

এখন এই ক্রিয়া, প্রতিক্রিয়া ভালোভাবে বুঝতে হলে, ধরাযাক একটি বালক রোলার (চাকা) লাগানো স্কেট (জুতো) পরে একটি দেওয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে, দেওয়ালের উপর একটি বল প্রয়োগ করলো। এটি হল ক্রিয়া। যা বালকটি দেওয়ালের ওপর প্রয়োগ করে। সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, বালকটিও দেওয়াল থেকে ক্রমশ দূরে সরে আসে। কেন এমন হল? তাহলে নিশ্চই দেওয়ালও বালকটির ওপর সমান ও বিপরীতমুখী একটি বল, বালকটির ওপর ক্রিয়া করে। এটিই হল প্রতিক্রিয়া।
তাই নিউটনের তৃতীয় সূত্রে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত একটি প্রতিক্রিয়া আছে।


Action and Reaction are equal and opposite
নিউটনের তৃতীয় সূত্র থেকে জানা যায়:
(1) প্রকৃতিতে একক বিচ্ছিন্ন বল বলে কিছু নেই। বল সর্বদা দুটি বস্তুর মধ্যে ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া রূপে বর্তমান থাকে। যখন বলা হয় একটি বল ক্রিয়া করে, তখন আসলে দুটি ক্রিয়াশীল বলের মধ্যে একটির কথাই বলা হয়।একটি বল হল অন্যটির পূরক। এবং ওরা একসঙ্গেই কাজ করে।

(2) ক্রিয়া যতক্ষন স্থায়ী হয়, প্রতিক্রিয়াও ততক্ষন স্থায়ী হয়। ক্রিয়া বন্ধ হলে, প্রতিক্রিয়া বলও বন্ধ হয়ে যায়।

(3) কোনো বস্তু স্থির বা গতিশীল অবস্থায় থাকাকালীন অথবা একটি অপরটিকে স্পর্শ করে বা স্পর্শ না করে পরস্পরের উপর বল প্রয়োগ করতে পারে এবং সব ক্ষেত্রেই নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি প্রযোজ্য হবে।

(4) ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বলদুটি কখনোই একই বস্তুতে সৃষ্টি হয় না।

(5) ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সমান ও বিপরীতমুখী হলেও সাম্য স্থাপন করে না। কারণ, সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুটি সমান এবং বিপরীতমুখী বলকে একই বিন্দুতে ক্রিয়া করতে হবে। যেহেতু ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল দুটি ভিন্ন বস্তুর উপর প্রযুক্ত হয় তাই ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া সমান ও বিপরীতমুখী হলেও সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।


Action and Reaction are equal and opposite
এক ব্যক্তি একটি চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় চেয়ারটিতে বল প্রয়োগ করে কখনোই উপরে উঠানো যায় না – কারণ
একটি লোক চেয়ারে বসে চেয়ারটিকে উঠানোর জন্যে চেয়ারে বসে থেকে যে ঊর্দ্ধমুখী বল প্রয়োগ করে, চেয়ারটিও ওই ব্যক্তির উপর সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে, অর্থাৎ ওই ব্যক্তির দ্বারা প্রযুক্ত বল এবং ওই বলের প্রতিক্রিয়া বল একই বস্তুর সংস্থার আভ্যন্তরীন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া মাত্র। এখানে বাইরের বল অনুপস্থিত। এবং ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল একই বস্তুতে একই বিন্দুতে প্রযুক্ত হচ্ছে। তাই চেয়ারে বসে চেয়ারটিকে উপরে উঠানো যায় না।

ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল সমান ও বিপরীত – এর একটি পরীক্ষামূলক প্রমান:
দুটি স্প্রীং-তুলা নিয়ে একটির হুকের সঙ্গে অপরটিকে আটকানো হল। এবার স্প্রীং তুলা দুটিকে বিপরীত দিকে সমান বলে টানলে দেখা যাবে স্প্রীং তুলা দুটির পাঠ সমান।
এবার ওই স্প্রীং তুলা জোড়ার একটি প্রান্তকে দেওয়ালের একটি হুকের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আটকে নিয়ে অপর প্রান্তটিকে আগের মতো সমান বল দিযে টানা হল। দেখা গেল, স্প্রীং তুলা দুটির কাঁটা আগের মতোই একই পাঠ দেখাচ্ছে। মনে হবে কেউ যেন হাত দিয়ে দেওয়ালে যুক্ত স্প্রীং তুলাটিকে দেওয়ালের দিকে টানছে। এখানে স্প্রীং এর খোলা প্রান্তে প্রযুক্ত বল বা (ক্রিয়া) এর ফলে দেওয়ালে আটকানো স্প্রীং তুলাটিতে প্রতিক্রিয়া বলের সৃষ্টি হয়েছে। তুলা দুটির সমান পাঠ প্রমাণ করে – ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া পরষ্পর সমান ও বিপরীতমুখী।


Action and Reaction are opposite and equal




ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। তাহলে গাছ থেকে পাকা ফল পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে কেন? পৃথিবী ফলের দিকে ছুটে যায় না কেন?
যেহেতু ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সমান, সেইজন্য পাকা ফল পৃথিবীকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে, পৃথিবীই সেই একই বল দ্বারা পাকা ফলটিকে আকর্ষণ করে।
পৃথিবী যে বল দ্বারা পাকা ফলটিকে আকর্ষণ করে \({F_{fruit}}\) = (ফলের ভর) \( \times \) (ফলের ত্বরণ)
এবং পাকা ফলটি যে বল দ্বারা পৃথিবীকে আকর্ষণ করে \({F_{earth}}\) = (পৃথিবীর ভর) \( \div \)( \times \) (পৃথিবীর ত্বরণ)
এখানে, ফলের ত্বরণ \({a_{fruit}}\) = (পৃথিবী যে বল দ্বারা ফলটিকে আকর্ষণ করে)/(ফলের ভর)
এবং পৃথিবীর ত্বরণ \({a_{earth}}\) = (ফল যে বল দ্বারা পৃথিবীকে আকর্ষণ করে)\( \div \)(পৃথিবীর ভর)
এখানে পৃথিবী যে বল দিয়ে ফলকে আকর্ষণ করে এবং ফলও যে বল দিয়ে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে, এই দুটি আকর্ষণ বলের মান সমান।
অর্থাৎ \({F_{earth}} = {F_{fruit}}\)
বা, \({m_{earth}} \times {a_{earth}} = {m_{fruit}} \times {a_{fruit}}\)
বা, \(\frac{{{a_{earth}}}}{{{a_{fruit}}}} = \frac{{{m_{fruit}}}}{{{m_{earth}}}} < < 1\) বা, \({a_{earth}} << {a_{fruit}}\) বা, \({a_{fruit}} >> {a_{earth}}\)
এখানে পৃথিবীর ভর, ফলের ভরের তুলনায় বহুগুন বেশী, সেইহেতু পৃথিবীর ত্বরণ ফলের ত্বরণের তুলনায় এতই নগন্য (\({a_{earth}} << {a_{fruit}}\)) যা হিসেবেই আসে না। অর্থাৎ ফলের ত্বরণ পৃথিবীর ত্বরণের তুলনায় অনেক বেশী হওয়ায়, পৃথিবী ফলের দিকে ছুটে না এসে, পাকা ফলটি গাছ থেকে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। (1) কোনো আরোহী, নৌকা থেকে লাফ দিয়ে তীরে পৌঁছালে নৌকাটি পিছনের দিকে সরে যায়। নৌকা থেকে তীরে লাফ দেওয়ার সময়, আরোহী নৌকার উপর যে বল প্রয়োগ করে তা হল ক্রিয়া। এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুযায়ী, এর ফলে নৌকাটিও আরোহীর উপর সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে। এই প্রতিক্রিয়া বলের প্রভাবেই আরোহী সামনের দিকে গতিশীল হয়ে তীরে এসে পৌঁছায়। এবং সঙ্গে সঙ্গে নৌকাটিও পিছনের দিকে সরে যায়।

Action and Reaction are opposite and equal

(2) ক্রিকেট খেলায় বোলার বল করলে ব্যাটস্‌ম্যান, ব্যাট দিয়ে বলটিকে আঘাত করে, ফলে বলের উপর ব্যাটের ক্রিয়ায় বলটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়। একই সময়ে বলটিও ব্যাটের উপর সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে, ফলে ব্যাটটি কিছুটা পিছনে সরে যায়। এখানে ক্রিয়া বল ক্রিকেট বলটির উপর এবং প্রতিক্রিয়া বল ব্যাটের উপর কাজ করে।

(3) ‍নৌকার উপর দাঁড়িয়ে যখন মাঝি বাঁশের লগি দিয়ে খালের জলের তলায় মাটিতে তির্যকভাবে একটি বল প্রয়োগ করে, তখন মাটিও বাঁশের উপর এই ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল তির্যকভাবে প্রয়োগ করে। এই তির্যক প্রতিক্রিয়া বলের অনুভূমিক উপাংশ নৌকাটিকে সামনের দিকে গতিশীল করে। যার ফলে নৌকাটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

(4) পাখি আকাশে ওড়ার সময় ডানা দিয়ে বাতাসের উপর বল প্রয়োগ করে। এই বল হল ক্রিয়া। ফলে বাতাসও পাখির ডানার উপর সমান ও বিপরীতমুখী একটি প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে। এই প্রতিক্রিয়া বলই পাখিকে আকাশে উড়তে সাহায্য করে। কিন্তু বায়ুশূন্য স্থানে পাখি ডানা দিয়ে নীচের দিকে বল প্রয়োগ করলেও, বাতাস না থাকায় কোনো ক্রিয়া বল কার্যকর হয় না। তাই কোনো প্রতিক্রিয়া বলেরও সৃষ্টি হয় না। তাই বায়ুশূন্য স্থানে পাখি উড়তে পারে না।

(5) ক্রিকেট বলকে ক্যাচ ধরার সময় হাতের উপর ক্রিয়া বল প্রযুক্ত হয়। ফলে থাতও বলটির উপর একটি বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে। এই প্রতিক্রিয়া বলকে প্রশমিত করতে খেলোয়াড় বল সহ হাতটিকে পিছনের দিকে টেনে নেয়।

(6) জেট বিমান ও রকেট এই নিউটনের তৃতীয় সূত্রের ক্রিয়া, প্রতিক্রিয়া বলের উপর ভিত্তি করেই চলাচল করে। জেট বিমান বা রকেটের ইঞ্জিনে একটি জ্বালানী কক্ষ থাকে। এই জ্বালানীর দহনের ফলে নিষ্ক্রান্ত গ্যাস বিমানের পিছন দিক দিয়ে দ্রুতবেগে নির্গত হয়, ফলে একটি ক্রিয়া বল প্রযুক্ত হয়। এই নির্গত গ্যাসের ফলে বিপরীতমুখী একটি প্রতিক্রিয়া বলের সৃষ্টি হয়। এই প্রতিক্রিয়া বলের জন্যই জেট বিমানটি সামনের দিকে অত্যন্ত দ্রুত বেগে এগিয়ে যায়।

(7) দেওয়ালির রাত্রে যখন হাউইবাজী আকাশে ওঠানো হয়, তখন এতে আগুন দিলে, এর ভিতরের বারুদের দহন হয়।, ফলে উৎপন্ন গ্যাস তীব্র গতিতে হাউইয়ের নীচের ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে। এটি হল ক্রিয়া। এর ফলে যে প্রচন্ড বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বলের সৃষ্টি হয়, সেই প্রতিক্রিয়া বলের প্রভাবেই হাউইটিকে তীব্রবেগে উপরে আকাশের দিকে ঠেলে নিয়ে যায়।

(8) আমরা যখন হাঁটি, তখন পা দিয়ে মাটির উপর তির্যকভাবে বল প্রয়োগ করি। এটি ক্রিয়া বল। মাটিও তখন সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল পায়ের উপর প্রয়োগ করে, যার প্রভাবে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সমান ও বিপরীতমুখী হওয়া সত্ত্বেও কোনো বস্তুর মধ্যে গতির সৃষ্টি হয় কেন?
ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া সর্বদা সমান ও বিপরীতমুখেই ক্রিয়াশীল। কোনো উপায়ে ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া বল দুইটির মধ্যে একটি বলকে বা বলের উপাংশকে কার্যকর হওয়ার সুযোগ দিলে আর অন্যটিকে কার্যকর হতে না দিলে, যে বলটি কার্যকর হয়, সেই বলটির জন্য বস্তুটিতে গতির সৃষ্টি হয়।

কার্যের ধারণা (Concept of Work):
একটি বইকে মেঝে থেকে তুলে টেবিলের ওপর রাখা হল। আবার একটি ভারী আলমারীকে বল প্রয়োগ দ্বারা সরানোর চেষ্টা করা হল। কিন্তু কোনোভাবেই আলমারীটিকে সরানো গেলো না। বিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুসারে, প্রথমটিতে কার্য করা হয়েছে বলে ধরা হয়, কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অনেক পরিশ্রম হলেও কোনো কার্য করা হয় না।
বাইরে থাকে বল প্রয়োগ করে কোনও বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারলে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় যে, বলটি কার্য করেছে। কিন্তু বল প্রয়োগ করা সত্তেও যদি বস্তুর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ সরণ হয় না, তাহলে ওই বল দ্বারা কোনো কার্যই হয় না।
প্রথম ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ করে বইয়ের সরণ ঘটানো হল, তাই এক্ষেত্রে কার্য করা হল। কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বল প্রয়োগ করা হলেও যেহেতু আলমারীর সরণ হয় না, সেইজন্যে এতে কোনো কার্য সম্পন্ন হয় না।

কার্যের সংজ্ঞা (Definition of Work):
কোনও বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে, যদি বলের প্রয়োগ বিন্দুর সরণ হয়, তখন ওই প্রযুক্ত বল কার্য করেছে বলে ধরা হয়। কোনো বস্তুর ওপর একটি বল প্রযুক্ত হয়ে কতখানি কার্য করেছে, তা পরিমাপ করা হয়, বস্তুটির উপর প্রযুক্ত বল এবং ওই বলের অভিমুখে, বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণের গুণফলের দ্বারা কার্যের পরিমাপ করা হয়।
অর্থাৎ কোনো বস্তুর ওপর \(F\) বল প্রয়োগ করা হলে, যদি বস্তুটির সরণ \(d\) হয়,
তাহলে,
কৃতকার্য = প্রযুক্ত বল\( \times \)বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণ।
বা, \(W = F.d\)

কার্য একটি স্কেলার রাশি:
কোনো বস্তুর ওপর একটি বল প্রযুক্ত হয়ে কতখানি কার্য করেছে, তা পরিমাপ করা হয়, বস্তুটির উপর প্রযুক্ত বল এবং ওই বলের অভিমুখে, বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণের গুণফলের দ্বারা কার্যের পরিমাপ করা হয়।
অর্থাৎ
কার্য = প্রযুক্ত বল\( \times \)বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণ।
এখানে প্রযুক্ত বল ও সরণ উভয়ই ভেক্টর রাশি হলেও, তাদের গুনফল কার্য একটি স্কেলার রাশি।

কার্যের CGS এবং SI একক:
কার্য = প্রযুক্ত বল\( \times \)বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণ।
অর্থাৎ \(W = F.d\)

CGS পদ্ধতিতে কার্যের একক:
কার্য = প্রযুক্ত বল\( \times \)বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণ।
অর্থাৎ \(W = F.d\)
বা, কার্যের একক = বলের একক\( \times \)সরণের একক।
= ডাইন\( \times \)সেমি
= আর্গ

SI পদ্ধতিতে কার্যের একক:
কার্য = প্রযুক্ত বল\( \times \)বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণ।
অর্থাৎ \(W = F.d\)
বা, কার্যের একক = বলের একক\( \times \)সরণের একক।
= নিউটন\( \times \)মিটার
= জুল

CGS ও SI তে কার্যের এককের মধ্যে সম্পর্ক:
\(1Joule = 1N \times 1m\)
বা, \(1Joule = {10^5}dyne \times {10^2}cm\)
বা, \(1Joule = {10^7}dyne \times cm\)
বা, \(1Joule = {10^7}erg\)

বল প্রয়োগ করলেও কোন্‌ কোন্‌ ক্ষেত্রে কার্য হয় না?
(i) কোনো বস্তুর ওপর বল ক্রিয়া করলেও, যদি বস্তুটির কোনো সরণ না ঘটে, স্থির থাকে তাহলে ওই বল কোনো কার্য করে না।
(ii) কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করলে, যদি বস্তুটির সরণ, প্রযুক্ত বলের অভিমুখের সাথে লম্বভাবে হয়, তখনও ওই বল দ্বারা কোনো কার্য হয় না।

বলের দ্বারা কার্য (Positive Work):
কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করা হলে, বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণ যদি প্রযুক্ত বলের দিকেই হয়, তখন ওই কার্যকে বলা হয় বলের দ্বারা কার্য বা বল দ্বারা কার্য করা হয়েছে। এই ধরনের কার্যকে ধনাত্বক কার্য বলে।
যেমন,
(i) একটি কাঠের ব্লক মেঝের উপর রাখা আছে। এখন ব্লকটিতে একটি নির্দিষ্ট দিকে বল প্রয়োগ করা হলে, ব্লকটি ওই প্রযুক্ত বলের অভিমুখেই গতিশীল হয় অর্থাৎ প্রযুক্ত বলের অভিমুখেই সরণ ঘটে। এই বল দ্বারা কৃতকার্য হল ধনাত্বক কার্য বা বলের দ্বারা কার্য।
(ii) একটি পাথরখন্ড যখন মুক্তভাবে অবাধে নীচের দিকে পড়তে থাকে, তখন পৃথিবীর অভিকর্ষ বল নীচের দিকে ক্রিয়াশীল এবং পাথরখন্ডটির সরণও নীচের দিকে। তাই এই অভিকর্ষ বল দ্বারা অবাধে পতনশীল বস্তুর উপর কৃতকার্য হল বলের দ্বারা কার্য বা ধনাত্বক কার্য।

বলের বিরূদ্ধে কার্য (Negative Work):
কোনো বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করা হলে, বলের প্রয়োগবিন্দুর সরণ যদি প্রযুক্ত বলের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়, তখন ওই কার্যকে বলা হয় বলের বিরূদ্ধে কার্য বা বলের উপর কার্য করা হয়েছে। এই ধরনের কার্যকে ঋনাত্বক কার্য বলে।
যেমন,
(i) একটি বইকে টেবিল থেকে উপরের দিকে ওঠালে, এক্ষেত্রে অভিকর্ষ বলের বিরঢদ্ধে কার্য করতে হয়। বইটিকে উপরের দিকে তুললে অভিকর্ষ বল নীচের দিকে ক্রিয়া করে এবং বইটির সরণ হয় উপরের দিকে, অর্থাৎ বিপরীতমুখী। এই কার্য হল বলের বিরুদ্ধে কার্য বা ঋনাত্বক কার্য।
(ii) একটি বস্তুকে যখন পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ছোঁড়া হয়, তখন বস্তুটির উপর অভিকর্ষ বল কাজ করে নীচের দিকে কিন্তু বস্তুটির সরণ হয় উপরের দিকে। তাই এই কার্য হল অভিকর্ষ বলের বিরূদ্ধে কার্য বা ঋনাত্বক কার্য।

শক্তি (Energy):
কোনও বস্তুর কার্য করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে। কোনও বস্তুর ওপর শক্তি প্রযুক্ত হলে, বস্তুটি কার্য করার সামর্থ্য পায়, কার্য সম্পাদন করে।
একটি বস্তু বিশেষ কোনো অবস্থায় যতটা কার্য করতে পারে তাই হল বস্তুটির শক্তির পরিমাপ। সেইজন্য শক্তিকে কার্যের একক দিয়েই মাপা হয়।
কার্যের ন্যায় শক্তিও একটি স্কেলার রাশি।

2

Thursday, July 12, 2018

Atom And Molecule || Class: 7 || Part: 3

Molecular Formula
যৌগিক পদার্থের অণুর সংকেত লেখার নিয়ম:

যোজ্যতার ধারণা (Concept of Valancy):
যৌগিক পদার্থের অণুর সংকেত লিখতে গেলে প্রথমে যোজ্যতার ধারণা একটু নেওয়া প্রয়োজন। আমরা এর পূর্বে প্রথম \(20\) পারমাণবিক সংখ্যা পর্যন্ত মৌলের যোজ্যতা কীভাবে নির্ণয় করতে হয় দেখেছি। এখানে যোজ্যতা কথাটির অর্থ হল যোজন ক্ষমতা। অর্থাৎ একটি মৌল অপর একটি মৌলের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকেই যোজ্যতা বলে। একটা উদাহরণ দিলেই আমরা বুঝতে পারবো।
যেমন, হাইড্রোজেন পরমাণু \(\left( H \right)\) একটি ইলেকট্রন বর্জন করে \({H^ + }\) ক্যাটায়নে পরিণত হয়। অপরদিকে একটি ক্লোরিন পরমাণু \(\left( {Cl} \right)\) একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে \(C{l^ - }\) ঋনাত্বক আয়নে পরিণত হয়। এখানে হাইড্রোজেন পরমাণুটি যে ইলেকট্রন বর্জন করে, ক্লোরিন পরমাণুটি সেই ইলেকট্রনটিকে গ্রহণ করে যথাক্রমে \({H^ + }\) ও \(C{l^ - }\) আয়নে পরিণত হয়ে তারা তড়িৎ আকর্ষণে পরষ্পর যুক্ত হয়ে \(HCl\) অণু গঠন করে। তাই এখানে হাইড্রোজেন ও ক্লোরিন পরমাণুর উভয়েরই যোজ্যতা হল \(1\)।

আবার একটি ক্যালশিয়াম পরমাণু \(\left( {Ca} \right)\) দুটি ইলেকট্রন বর্জন করে \(C{a^{ + + }}\) আয়নে পরিণত হয়। অপরদিকে একটি ক্লোরিন পরমাণু \(\left( {Cl} \right)\) কেবলমাত্র একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে এবং \(C{l^ - }\) আয়নে পরিণত হয়। তাহলে এখন যদি ক্যালশিয়াম ও ক্লোরিন মিলে যৌগ গঠন করতে চায় তাহলে ক্যালশিয়াম পরমাণু দুটি ইলেকট্রন বর্জন করবে কিন্তু ক্লোরিন কেবলমাত্র একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে, তাই এক্ষেত্রে দুইটি ক্লোরিন পরমাণুর দরকার হয়। এবং ওই যৌগিক পদার্থটির সংকেতে একটি ক্যালশিয়াম পরমাণু থাকে এবং দুটি ক্লোরিন পরমাণু থাকে, তাই এই যৌগটিকে লিখতে হয় \(CaC{l_2}\)। তাই এখানে ক্যালশিয়াম পরমাণুর যোজ্যতা হল \(2\) এবং ক্লোরিন পরমাণুর যোজ্যতা হয় \(1\)।

আবার কয়েকটি মৌল আছে যাদের যোজ্যতা একাধিক। এদেরকে পরিবর্তনশীল যোজ্যতা যোজ্যতা (Variable Valancy) বিশিষ্ট মৌল বলে। যেমন, ফেরাম বা লোহা, স্ট্যানাম বা টিন, কিউপ্রাম বা কপার, মার্কারী বা পারদ ইত্যাদি। নিম্নে একটি তালিকার মাধ্যমে এদের যোজ্যতাগুলি দেখানো হল। যৌগ গঠনের সময় যখন কম যোজ্যতার মৌলটি ব্যবহৃত হয় তখন তাদের নামের শেষে "আস" এবং যখন বেশী যোজ্যতার মৌলটি যখন লেখা হয তখন নামের শেষে "ইক" কথাটি লেখা হয়।

মূলকের ধারণা (Concept of Radicals):
কখনো কখনো একই মৌলের এক বা একাধিক পরমাণু বা বিভিন্ন মৌলের এক বা একাধিক পরমাণু জোটবদ্ধ অবস্থায় থেকে তড়িৎগ্রস্থ পরমাণু সমষ্টি বা আয়নের মতো আচরণ করে। তখন এদের সাধারণভাবে মূলক (Radicals) বলে। এই মূলকের আধান ধনাত্বক এবং ঋনাত্বক উভয়ই হতে পারে। এবং মূলকগুলির আধানের পরিমাণের দ্বারাই তার যোজ্যতা নির্ধারিত হয়।
যেমন, সালফেট মূলক \(SO_4^ = \), এর যোজ্যতা হল \(2\)
নাইট্রেট মূলক \(NO_3^ - \), এর যোজ্যতা হল \(2\)
কার্বনেট মূলক \(CO_3^ = \), এর যোজ্যতা হল \(2\) ইত্যাদি।

কয়েকটি সংজ্ঞা:

যোজ্যতা (Valancy):
কোনো মৌলের একটি পরমাণু, অপর কোনও এক বা ভিন্ন মৌলের কোনো পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজ্যতা (Valancy) বলে।
সাধারণভাবে, কোনও মৌলের একটি পরমাণু যে কয়টি হাইড্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বা হাইড্রোজেনঘটিত কোনও যৌগের অণু থেকে যতগুলি হাইড্রোজেন পরমাণু প্রতিস্থাপিত করতে পারে, সেই সংখ্যা দ্বারা ওই পরমাণুর যোজ্যতার পরিমাপ করা হয়। কারণ এক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের যোজ্যতা হয় ।

মৌলমূলক (Radicals):
এক বা একাধিক একইরকমের পরমাণু অনেকসময় যৌগমূলকের ন্যায় আচরণ করে, তখন এদেরকে মৌলমূলক বলে।
যেমন:
ক্লোরাইড মূলক \(C{l^ - }\), এর যোজ্যতা হল \(1\)
নাইট্রাইড মূলক \({N^{ - - - }}\), এর যোজ্যতা হল \3\)
সালফাইড মূলক \({S^{ - - }}\), এর যোজ্যতা হল \(2\)
ফসফাইড মূলক \({P^{ - - - }}\), এর যোজ্যতা হল \(3\)
অক্সাইড মূলক \({O^{ - - }}\), এর যোজ্যতা হল \(2\)
হাইড্রাইড মূলক \({H^ - }\), এর যোজ্যতা হল \(1\)
ফ্লোরাইড মূলক \({F^ - }\), এর যোজ্যতা হল \(1\)
ব্রোমাইড মূলক \(B{r^ - }\), এর যোজ্যতা হল \(1\)

যৌগমূলক (Radicals):
একাধিক রকমের বিভিন্ন পরমাণু পরষ্পরের সঙ্গে বিশেষ ধরণের জোটবদ্ধ অবস্থায় থেকে যদি সামগ্রিকভাবে একটি অখন্ড পরমাণুর মতো আচরণ করে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তখন ওইরকম পরমাণুর জোটকে যৌগমূলক বলে। এই মূলক ধনাত্বক, ঋনাত্বক বা প্রশম প্রকৃতিরও হতে পারে।

ধনাত্বক তড়িৎগ্রস্থ যৌগমূলক:
অ্যামোনিয়াম মূলক \(NH_4^ + \), এর যোজ্যতা হল \(1\)
ফসফোনিয়াম মূলক \(PH_4^ + \), এর যোজ্যতা হল \(1\)

ঋনাত্বক তড়িৎগ্রস্থ মূলক:
সালফেট মূলক \(SO_4^ = \), এর যোজ্যতা হল \(2\)
বাইসালফেট মূলক \(HSO_4^ - \), এর যোজ্যতা হল \(1\)
কার্বনেট মূলক \(CO_3^ = \), এর যোজ্যতা হল \(2\)
বাইকার্বনেট মূলক \(HCO_3^ - \), এর যোজ্যতা হল \(1\)
নাইট্রেট মূলক \(NO_3^ - \), এর যোজ্যতা হল \(1\)
নাইট্রাইট মূলক \(NO_2^ - \), এর যোজ্যতা হল \(1\)
সায়ানাইড মূলক \(C{N^ - }\), এর যোজ্যতা হল \(1\)

প্রশম মূলক:
মিথাইল মূলক \(\left( { - C{H_3}} \right)\)
ইথাইল মূলক \(\left( { - {C_2}{H_5}} \right)\)
প্রোপাইল মূলক \(\left( { - {C_3}{H_7}} \right)\)

আণবিক সংকেত লেখার পদ্ধতি (How to write Molecular Formula):
মৌল ও মূলকের চিহ্ন ও যোজ্যতা জানা থাকলে যৌগের সংকেত খুব সহজে প্রকাশ করা যায়। যেমন, একটি মৌল \(M\), এর সঙ্গে অন্য একটি মৌল বা মূলক \(N\) যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করছে। এখন \(M\) মৌলের যোজ্যতা \(x\) এবং \(N\) মৌলের যোজ্যতা \(y\)। তাহলে \(M\) ও \(N\) দ্বারা গঠিত যৌগের সংকেত হবে \({M_y}{N_x}\)। অর্থাৎ \(M\) মৌলের যোজ্যতা যত, সেই সংখ্যাটিকে \(N\) মৌলের ডানপাশে একটু নীচের দিকে লেখা হয় এবং \(N\) মৌলের যোজ্যতা যত, সেই সংখ্যাটিকে \(M\) মৌলের ডানপাশে একটু নীচের দিকে লিখে যৌগটির সংকেতটিকে প্রকাশ করা হয়।

যৌগের সংকেত লেখার নিয়ম:
(1) যৌগটি, দুটি অধাতু নিয়ে গঠিত হলে, যেটি বেশী তড়িৎধনাত্বক, সেটিকে আগে লিখতে হয়। যেমন, \(NO\), \(S{O_2}\), \(PC{l_5}\) ইত্যাদি।
(2) দুটি অধাতুর মধ্যে একটি কঠিন হলে, সেটিকে প্রথমে লিখতে হয়। যেমন: \(C{O_2}\), \(Si{O_2}\) ইত্যাদি।
(3) যৌগটি ধাতু ও অধাতুর দ্বারা গঠিত হলে, প্রথমে ধাতুটিকে তারপর অধাতুটিকে লিখতে হয়। যেমন: \(CaO\), \(N{a_2}S\) ইত্যাদি।
(4) কোনও যৌগ ধনাত্বক মূলক ও অধাতু দিয়ে গঠিত হলে, প্রথমে ধানাত্বক মূলকটিকে তারপর অধাতুটিকে লিখতে হয়। যেমন: \(N{H_4}Cl\)
(5) কোনো যৌগ ধনাত্বক মূলক ও ঋনাত্বক মূলক দ্বারা গঠিত হলে, প্রথমে ধনাত্বক মূলকটিকে ও পরে ঋনাত্বক মূলকটিকে লিখতে হয়। যেমন: \(N{H_4}OH\)
(6) হাইড্রোজেন অধাতু হলেও এটি ধাতুর ন্যায় আচরণ করে তাই, কয়েকটি ক্ষেত্রে আবার নিয়মের ব্যাতিক্রমও দেখা যায়। যেমন: \({H_2}S\)

কয়েকটি মৌলের নাম, চিহ্ন ও যোজ্যতা:

যোজ্যতা: 1 যোজ্যতা: 2 যোজ্যতা: 3 যোজ্যতা: 4
\(H\) \(O\) \(B\) \(C\)
\(Li\) \(Mg\) \(Al\) \(Si\)
\(F\) \(Ca\) - -
\(Na\) - - -
\(Cl\) - - -
\(K\) - - -
\(Ag\) - - -

পরিবর্তনশীল যোজ্যতা বিশিষ্ট কয়েকটি মৌলের নাম, চিহ্ন ও তাদের যোজ্যতা:

যোজ্যতা: 1 যোজ্যতা: 2 যোজ্যতা: 3 যোজ্যতা: 4 যোজ্যতা: 5
\(N\) \(N\) \(N\) \(N\) \(N\)
- \(S\) - \(S\) -
- - \(P\) - \(P\)
- - \(As\) - \(As\)
- \(Fe\) \(Fe\) - -
- \(Cr\) \(Cr\) - -
- \(Sn\) - \(Sn\) -
- \(Pb\) - \(Pb\) -
\(Hg\) \(Hg\) - - -
\(Cu\) \(Cu\) - - -

কয়েকটি মৌল মূলকের নাম, চিহ্ন ও যোজ্যতা:

পরিবর্তনশীল যোজ্যতা বিশিষ্ট কয়েকটি মৌলের নাম, চিহ্ন ও তাদের যোজ্যতা:

যোজ্যতা: 1 যোজ্যতা: 2 যোজ্যতা: 3
হাইড্রাইড \(H\) অক্সাইড \(O\) ফসফাইড \(P\)
ক্লোরাইড \(Cl\) সালফাইড \(S\) নাইট্রাইড \(N\)
ব্রোমাইড \(Br\) - -
আয়োডাইড \(I\) - -
ফ্লোরাইড \(F\) - -

কয়েকটি যৌগমূলকের নাম, চিহ্ন ও যোজ্যতা:

যোজ্যতা: 1 যোজ্যতা: 2 যোজ্যতা: 3 যোজ্যতা: 4
হাইড্রক্সিল \(\left( {OH} \right)\) জিঙ্কেট \(\left( {Zn{O_2}} \right)\) ফসফেট \(\left( {P{O_4}} \right)\) -
নাইট্রেট \(\left( {N{O_3}} \right)\) - ফেরোসায়ানাইড \(Fe{\left( {CN} \right)_6}\) ফেরিসায়ানাইড \(Fe{\left( {CN} \right)_6}\)
নাইট্রাইট \(\left( {N{O_2}} \right)\) - - -
বাইকার্বনেট \(\left( {HC{O_3}} \right)\) কার্বনেট \(\left( {C{O_3}} \right)\) - -
বাইসালফেট \(\left( {HS{O_4}} \right)\) সালফেট \(\left( {S{O_4}} \right)\) - -
- সালফাইট \(\left( {S{O_3}} \right)\) - -
পারম্যাঙ্গানেট \(\left( {Mn{O_4}} \right)\) সিলিকেট \(\left( {Si{O_3}} \right)\) - -
ক্লোরেট \(\left( {Cl{O_3}} \right)\) ক্রোমেট \(\left( {Cr{O_4}} \right)\) - -
অ্যালুমিনেট \(\left( {A{l_2}{O_3}} \right)\) ডাইক্রোমেট \(\left( {C{r_2}{O_7}} \right)\) - -
অ্যামোনিয়াম \(\left( {N{H_4}} \right)\) - - -
সায়ানাইড \(\left( {CN} \right)\) - - -

নাইট্রোজেনের পাঁচটি যোজ্যতার বিভিন্ন যৌগ:

যৌগের নাম সংকেত যোজ্যতা
নাইট্রাস অক্সাইড \({N_2}O\) \(1\)
নাইট্রিক অক্সাইড \({N_2}{O_2} \to NO\) \(2\)
ডাইনাইট্রোজেন ট্রাইঅক্সাইড \({N_2}{O_3}\) \(3\)
নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড \({N_2}{O_4} \to N{O_2}\) \(4\)
নাইট্রোজেন পেন্টঅক্সাইড \({N_2}{O_5}\) \(5\)

ফসফরাসের দুটি যোজ্যতার বিভিন্ন যৌগ:

যৌগের নাম সংকেত যোজ্যতা
ফসফরাস ট্রাইক্লোরাইড \(PC{l_3}\) \(3\)
ফসফরাস পেন্টাক্লোরাইড \(PC{l_5}\) \(5\)

সালফারের তিনটি যোজ্যতার বিভিন্ন যৌগ:

যৌগের নাম সংকেত যোজ্যতা
হাইড্রোজেন সালফাইড \({H_2}S\) \(2\)
সালফার ডাইঅক্সাইড \({S_2}{O_4} \to S{O_2}\) \(4\)
সালফার ট্রাইঅক্সাইড \({S_2}{O_6} \to S{O_3}\) \(6\)

এখন নিম্নের যৌগগুলির সংকেত নিজে নিজে তৈরি করো:
[2column]
[content]
অক্সাইড যৌগ:
সোডিয়াম অক্সাইড/সোডিয়াম মনোক্সাইড
ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড
অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড
ফেরাস অক্সাইড
ফেরিক অক্সাইড

হাইড্রাইড যৌগ:
সোডিয়াম হাইড্রাইড
ক্যালশিয়াম হাইড্রাইড
লিথিয়াম হাইড্রাইড

হাইড্রক্সাইড যৌগ:
সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
ক্যালশিয়াম হাইড্রক্সাইড
অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড
অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড

হ্যালাইড যৌগ:
সোডিয়াম ক্লোরাইড
ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড
অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
ফেরাস ক্লোরাইড
ফেরিক ক্লোরাইড
স্ট্যানাস ক্লোরাইড
স্ট্যানিক ক্লোরাইড
মারকিউরাস ক্লোরাইড
মারকিউরিক ক্লোরাইড
সিলভার ক্লোরাইড
সিলভার ব্রোমাইড
পটাশিয়াম আয়োডাইড

নাইট্রেট/নাইট্রাইট/নাইট্রাইড যৌগ:
সোডিয়াম নাইট্রেট
পটাশিয়াম নাইট্রেট
ক্যালশিয়াম নাইট্রেট
সোডিয়াম নাইট্রাইট
পটাশিয়াম নাইট্রাইট
অ্যালুমিনিয়াম নাইট্রাইড
ম্যাগনেশিয়াম নাইট্রাইড
[/content]
[content]
কার্বনেট/বাইকার্বনেট যৌগ:
সোডিয়াম কার্বনেট
সোডিয়াম বাইকার্বনেট
পটাশিয়াম কার্বনেট
পটাশিয়াম বাইকার্বনেট
ক্যালশিয়াম কার্বনেট
ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেট
অ্যামোনিয়াম কার্বনেট

সালফেট/সালফাইট/সালফাইড যৌগ:
সোডিয়াম সালফেট
পটাশিয়াম সালফেট
সোডিয়াম সালফাইট
পটাশিয়াম সালফাইট
লেড সালফাইড
কিউপ্রাস সালফেট
কিউপ্রিক সালফেট
ফেরাস সালফেট
ফেরিক সালফেট
অ্যামোনিয়াম সালফেট
সোডিয়াম সালফাইড
জিঙ্ক সালফাইড
ম্যাগনেশিয়াম সালফাইড
ক্যালশিয়াম সালফাইড

ফসফেট যৌগ:
ফেরিক ফসফেট
ক্যালশিয়াম ফসফেট
সোডিয়াম ফসফেট
অ্যামোনিয়াম ফসফেট

অ্যালুমিনেট/জিঙ্কেট/সিলিকেট যৌগ:
সোডিয়াম অ্যালুমিনেট
পটাশিয়াম অ্যালুমিনেট
সোডিয়াম জিঙ্কেট
সোডিয়াম সিলিকেট
অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট

ক্রোমেট/ডাইক্রোমেট/ক্লোরেট/পারম্যাঙ্গানেট যৌগ:
পটাশিয়াম ক্লোরেট
পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট
পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট

সায়ানাইড যৌগ:
পটাশিয়াম সায়ানাইড
পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইড
পটাশিয়াম ফেরিসায়ানাইড
[/content]
[/2column]

Atom & Molecule Part: 1

Atom & Molecule Part: 2

Atom & Molecule Part: 3

Atom & Molecule Part: 4

Atom & Molecule Part: 5

Atom & Molecule Part: 6

0

Wednesday, July 11, 2018

Atom and Molecule || Class: 7 || Part: 2

ডালটনের পরমাণুবাদে বলা হয়েছিল,
(1) পরমাণু অবিভাজ্য অর্থাৎ পরমাণুকে আর ভাঙা যায় না।
(2) পরমাণু নিরেট অর্থাৎ পরমাণু একদম শক্ত ও এতে কোনও ফাঁকা জায়গা নেই।
(3) পরমাণু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

কিন্তু বাস্তবে পরমাণু অবিভাজ্য নয়। একটি পরমাণুকে ভেঙে তিনটি মূল কণিকা পাওয়া যায়। (i) ইলেকট্রন (ii) প্রোটন ও (iii) নিউট্রন। এই তিনটি মূল কণিকার প্রকৃতি ও ধর্মও আলাদা। নীচে একটি তালিকার মাধ্যমে এই তিনটি কণিকার অবস্থান, প্রকৃতি, চরিত্র ও ভর দেখানো হল।

ইলেকট্রন: প্রোটন: নিউট্রন:
এর আধান বা চার্জ ঋনাত্বক বা নেগেটিভ। এর আধান বা চার্জ ধনাত্বক বা পজিটিভ। এর কোনো আধান নেই। এটি নিস্তড়িৎ কণিকা।
এর আধানের পরিমান \( - 1.602 \times {10^{ - 19}}C\) এর আধানের পরিমান \( + 1.602 \times {10^{ - 19}}C\) এর আধানের পরিমান শূন্য।
একটি ইলেকট্রনের ভর প্রায় \(9.1 \times {10^{ - 31}}kg\) একটি প্রোটনের ভর প্রায় \(1.672 \times {10^{ - 27}}kg\) একটি নিউট্রনের ভর প্রায় \(1.675 \times {10^{ - 27}}kg\)
ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রনমহলে বিভিন্ন কক্ষপথে আবর্তন করে। প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে। নিউট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে।

একটি পরমাণুর মূলত দুটি অংশ। (i) একটি নিউক্লিয়াস (ii) নিউক্লিয়াসের বাইরের ইলেকট্রনমহল।

নিউক্লিয়াস বা পরমাণুর কেন্দ্রক (Neucleus):
একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস হল সবথেকে নিরেট অংশ। এখানে ধনাত্বক আধানের প্রোটন কণা ও নিস্তড়িৎ নিউট্রন কণাগুলি একত্রে ঠাসাঠাসিভাবে অবস্থান করে। এবং এখানে েই সবথেকে ভারী কণা নিউট্রন ও প্রোটন কণাগুলি একত্রে অবস্থান করার ফলে এই নিউক্লিয়াসই হল পরমাণুর সবচেয়ে ভারী ও নিরেট অংশ।

নিউক্লিয়াসের বাইরের ইলেকট্রন মহল:
পরমাণুর এই নিরেট নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঋনাত্বক আধানের ইলেকট্রন কণাগুলি বিভিন্ন কক্ষপথে আবর্তন করতে থাকে। ঠিক সৌরজগতের গঠনে সূর্যকে কেন্দ্র করে যেমন বিভিন্ন গ্রহগুলি বিভিন্ন কক্ষপথে আবর্তন করে, এখানেও ঠিক সেইরকম এই নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঋনাত্বক আধানের ইলেকট্রন কণাগুলি বিভিন্ন কক্ষপথে আবর্তন করে। একটি পরমাণুর সামগ্রিক আয়তনের তুলনায় নিউক্লিয়াসের আয়তন অতি নগন্য (কম)। তাই ডালটন বলেছিলেন, পরমাণুর পুরোটাই নিরেট, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে পরমাণুর বেশিরভাগ স্থানই ফাঁকা।

তবে সৌরজগতের গঠনে আমরা দেখতে পাই, একটি কক্ষপথে কেবলমাত্র একটি গ্রহই আবর্তন করে কিন্তু এই পরমাণুর গঠনে একটি কক্ষপথে এক বা একাধিক ইলেকট্রন আবর্তন করতে পারে। পরমাণুর গঠনে নিউক্লিয়াসের পর প্রথম যে কক্ষপথটি থাকে তার নাম \(K\) কক্ষপথ, তারপরেরটি \(L\), \(M\), \(N\), ... ... এইভাবে নামকরণ করা হয়। এখানে এই কক্ষপথগুলিকে বলা হয় মুখ্য কোয়ান্টাম নম্বর (\(n\))।
এখানে,
\(n = 1\) হলে কক্ষপথটি হল, প্রথম কক্ষপথ এবং এর নাম \(K\) কক্ষপথ।
\(n = 2\) হলে কক্ষপথটি হল, প্রথম কক্ষপথ এবং এর নাম \(L\) কক্ষপথ।
\(n = 3\) হলে কক্ষপথটি হল, প্রথম কক্ষপথ এবং এর নাম \(M\) কক্ষপথ।
\(n = 4\) হলে কক্ষপথটি হল, প্রথম কক্ষপথ এবং এর নাম \(N\) কক্ষপথ।
\(n = 5\) হলে কক্ষপথটি হল, প্রথম কক্ষপথ এবং এর নাম \(O\) কক্ষপথ।
\(n = 6\) হলে কক্ষপথটি হল, প্রথম কক্ষপথ এবং এর নাম \(P\) কক্ষপথ।

এবং কোন্‌ কক্ষপথে কতগুলি করে ইলেকট্রন আবর্তন করবে তাও আবার নির্দিষ্ট। এক্ষেত্রে দুটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়।

প্রথম নিয়ম:
\(K\) কক্ষপথে সর্বাধিক থাকতে পারবে \(2\) টি ইলেকট্রন।
\(L\) কক্ষপথে সর্বাধিক থাকতে পারবে \(8\) টি ইলেকট্রন।
\(M\) কক্ষপথে সর্বাধিক থাকতে পারবে \(18\) টি ইলেকট্রন।
\(N\) কক্ষপথে সর্বাধিক থাকতে পারবে \(32\) টি ইলেকট্রন।
\(O\) কক্ষপথে সর্বাধিক থাকতে পারবে \(50\) টি ইলেকট্রন ইত্যাদি।

এখানে খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে যে ওই ওই কক্ষপথে সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশী থাকতে পারে ওই সংখ্যক ইলেকট্রন। কিন্তু তার থেকে কমও থাকতে পারে কিন্তু কোনও ভাবেই ওই নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশী ইলেকট্রন থাকবে না।

দ্বিতীয় নিয়ম:
কোনও পরমাণুর সবথেকে যেটি বাইরের কক্ষপথ হবে, তাতে কখনোই কিন্তু \(8\) টির বেশী ইলেকট্রন থাকবে না। একেবারে শেষ কক্ষপথে একটিমাত্র ক্ষেত্রে \(8\) টি ইলেকট্ন থাকতে পারে। যদি \(8\) টি ইলেকট্রন থাকে তাহলে সেটি অবশ্যই একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস হবে। এই নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলি ছাড়া অন্য কোনও পরমাণুর কোনও ভাবেই \(8\) টি বা তার থেকে বেশী ইলেকট্রন থাকবে না। (যদিও একটি ব্যাতিক্রম আছে, হিলিয়াম পরমাণুর বাইরের কক্ষপথে মাত্র \(2\) টি ইলেকট্রন আছে, যদিও হিলিয়াম একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস)।

➤ তাহলে আমরা এখানে জানলাম যে, কোনও পরমাণু শুধুমাত্র তিনটি কণা দ্বারা গঠিত হয়, ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। এবার পরমাণুগুলি আলাদা আলাদা হওয়ার কারণ হল, ওই পরমানুগুলির ভিতরে প্রোটন সংখ্যার বিভিন্নতা। বিভিন্ন পরমাণুতে তার নিউক্লিয়াসে বিভিন্ন সংখ্যক প্রোটন থাকে বলেই পরমাণুগুলি আলাদা আলাদা হয়। কিন্তু বর্তমানে মোট \(110\) টি মৌলিক পরমাণুর সবগুলোই তৈরি এই ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন কণা দিয়ে।

➤ আর একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। আমরা পূর্বেই দেখলাম, পরমাণুর মধ্যে নিউক্লিয়াসের ভিতরে থাকে ধনাত্বক তড়িতের প্রোটন কণা এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘুরে বেড়ায় ঋনাত্বক তড়িতের ইলেকট্রন কণিকা। তাহলে পরমাণুর ভিতরে এই তড়িতগ্রস্থ কণাগুলো থাকা সত্ত্বেও কোনও পরমাণু বা পদার্থে চার্জ বা বৈদ্যুতিক শক্‌ লাগে না কেন?
আসলে উপরের তালিকাতে দেখেছি, একটি প্রোটনে ঠিক যে পরিমান ধনাত্বক তড়িৎ থাকে, একটি ইলেকট্রনেও ঠিক সেই পরিমান ঋনাত্বক তড়িত থাকে। এবং কোনো পরমাণুর ভিতরে যতগুলো প্রোটন কণা থাকে, নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক ততগুলি ইলেকট্রন কণা থাকে। তাই সামগ্রিকভাবে পরমাণুটিকে ভাবলে সেটি আসলে তড়িত নিরপেক্ষ হয়। প্রোটনের ধনাত্বক তড়িত, ইলেকট্রনের ঋনাত্বক তড়িতকে সম্পূর্ণভাবে প্রশমিত করে দেয়, তাই পরমাণু তড়িৎ নিরপেক্ষ বা নিস্তড়িৎ হয়।

পরমাণু বিষয়ক দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা (Two Important Definition):

পারমাণবিক সংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্ক (Atomic Number):
কোনও পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে যতগুলি ধনাত্বক তড়িতের প্রোটন কণা থাকে, সেই সংখ্যাকে ওই মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা বা পরমাণু ক্রমাঙ্ক বলে। কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যাকে সর্বদা \(Z\) অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে \(1\) টি প্রোটন থাকে, তাই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা হল \(1\)। আবার ম্যাগনেশিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে মোট \(12\) টি প্রোটন থাকে, তাই ম্যাগনেশিয়াম পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা হল \(12\)।

ভরসংখ্যা (Mass Number):
কোনও পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে যতগুলি প্রোটন ও নিউট্রন কণা থাকে, তাদের মোট সমষ্টিকে ভরসংখ্যা বলে। কোনও মৌলের ভরসংখ্যাকে \(Z\) অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে মোট \(11\) টি প্রোটন ও \(12\) টি নিউট্রন থাকে, তাকে সোডিয়াম পরমাণুর ভরসংখ্যা হল \(23\)। আবার ক্যালশিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে মোট \(20\) টি প্রোটন ও \(20\) টি নিউট্রন থাকে, তাই ক্যালশিয়াম পরমাণুর ভরসংখ্যা হল \(40\)।

এখানে প্রথম \(20\) টি পরমাণুর গঠন একটি বিস্তারিতভাবে ও তালিকার মাধ্যমে দেখানো হল। একটি পরমাণুর গঠন বর্ণনা করা বলতে বোঝায় তার কেন্দ্রে কয়টি প্রোটন ও কয়টি নিউট্রন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে কোন কক্ষপথে কয়টি ইলেকট্রন কিভাবে আছে তা বিশেষভাবে জানা।

হাইড্রোজেন পরমাণু (\(H_1^1\)):
হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে একটি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে একটি ইলেকট্রন আবর্তন করে।


হিলিয়াম পরমাণু (\(He_2^4\)):
হিলিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে দুটি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে দুটি ইলেকট্রন আবর্তন করে।


লিথিয়াম পরমাণু (\(Li_3^6\)):
লিথিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে তিনটি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে তিনটি ইলেকট্রন আবর্তন করে।

বেরিলিয়াম পরমাণু (\(Be_4^9\)):
বেরিলিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে চারটি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে চারটি ইলেকট্রন আবর্তন করে।

বোরন পরমাণু (\(B_5^{10}\)):
বোরন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে মধ্যে পাঁচটি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে পাঁচটি ইলেকট্রন আবর্তন করে।

কার্বন পরমাণু (\(C_6^{12}\)):
কার্বন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে মোট ছয়টি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে ছয়টি ইলেকট্রন আবর্তন করে।

নাইট্রোেজেন পরমাণু (\(N_7^{14}\)):
নাইট্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে মোট সাতটি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে সাতটি ইলেকট্রন আবর্তন করে।

অক্সিজেন পরমাণু (\(O_8^{16}\)):
অক্সিজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে মোট আটটি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে আটটি ইলেকট্রন আবর্তন করে।

ফ্লোরিন পরমাণু (\(F_9^{19}\)):
ফ্লোরিন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে মোট নয়টি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে নয়টি ইলেকট্রন আবর্তন করে।

নিয়ন পরমাণু (\(Ne_{10}^{20}\)):
নিয়ন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে মোট দশটি প্রোটন ও নিউক্লিয়াসের বাইরে দশটি ইলেকট্রন বিভিন্ন কক্ষপথে আবর্তন করে।



(\(Z\)) পরমাণু চিহ্ন \(K\left( 2 \right)\) \(L\left( 8 \right)\) \(M\left( 18 \right)\) \(N\left( 32 \right)\) যোজ্যতা চরিত্র
\(1\) হাইড্রোজেন (\(H\)) \(1\) - - - \(1\) অধাতু
\(2\) হিলিয়াম (\(He\)) \(2\) - - - \(0\) নিষ্ক্রিয়
\(3\) লিথিয়াম (\(Li\)) \(2\) \(1\) - - \(1\) ধাতু
\(4\) বেরিলিয়াম (\(Be\)) \(2\) \(2\) - - \(2\) ধাতু
\(5\) বোরন (\(B\)) \(2\) \(3\) - - \(3\) ধাতু
\(6\) কার্বন (\(C\)) \(2\) \(4\) - - \(4\) অধাতু
\(7\) নাইট্রোজেন (\(N\)) \(2\) \(5\) - - \(\left( {8 - 5} \right) = 3\) অধাতু
\(8\) অক্সিজেন (\(O\)) \(2\) \(6\) - - \(\left( {8 - 6} \right) = 2\) অধাতু
\(9\) ফ্লোরিন (\(F\)) \(2\) \(7\) - - \(\left( {8 - 7} \right) = 1\) অধাতু
\(10\) নিয়ন (\(Ne\)) \(2\) \(8\) - - \(\left( {8 - 8} \right) = 0\) নিষ্ক্রিয়
\(11\) সোডিয়াম (\(Na\)) \(2\) \(8\) \(1\) - \(1\) ধাতু
\(12\) ম্যাগনেশিয়াম (\(Mg\)) \(2\) \(8\) \(2\) - \(2\) ধাতু
\(13\) অ্যালুমিনিয়াম (\(Al\)) \(2\) \(8\) \(3\) - \(3\) ধাতু
\(14\) সিলিকন (\(Si\)) \(2\) \(8\) \(4\) - \(4\) ধাতুকল্প
\(15\) ফসফরাস (\(P\)) \(2\) \(8\) \(5\) - \(\left( {8 - 5} \right) = 3\) অধাতু
\(16\) সালফার (\(S\)) \(2\) \(8\) \(6\) - \(\left( {8 - 6} \right) = 2\) অধাতু
\(17\) ক্লোরিন (\(Cl\)) \(2\) \(8\) \(7\) - \(\left( {8 - 7} \right) = 1\) অধাতু
\(18\) আর্গন (\(Ar\)) \(2\) \(8\) \(8\) - \(\left( {8 - 8} \right) = 0\) নিষ্ক্রিয়
\(19\) পটাশিয়াম (\(K\)) \(2\) \(8\) \(8\) \(1\) \(1\) ধাতু
\(20\) ক্যালশিয়াম (\(Ca\)) \(2\) \(8\) \(8\) \(2\) \(2\) ধাতু

আয়নের ধারণা (Concept of Ions):
আমরা দেখলাম পরমাণু সাধারণভাবে নিস্তড়িৎ হয়, কারণ পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে যতগুলি ধনাত্বক তড়িতের প্রোটন কণা থাকে, ওই পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক ততগুলি ঋনাত্বক তড়িতের ইলেকট্রন কণা থাকে। এবং প্রোটন ও ইলেকট্রনের আধানের পরিমাণ একই হওয়ায় পরমাণু নিস্তড়িত হয়।
এই প্রোটন ও ইলেকট্রনের মধ্যে প্রোটনের অবস্থান পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে ও ইলেকট্রনের অবস্থান নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে। তাই একটি পরমাণু থেকে কোনওভাবেই প্রোটন সহজে বেরিয়ে যেতে পারে না বা বাইরে থেকেও প্রোটন এসে নিউক্লিয়াসের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না।
কিন্তু পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রনগুলি বিভিন্ন কারণে (শক্তি শোষন বা বর্জনে) বেরিয়ে যেতে পারে আবার অন্য কোনও পরমাণু থেকে চলেও আসতে পারে। তখন ওই পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা আলাদা হয়ে যায়। এই প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা আলাদা হলে আধানের পার্থক্যের জন্য ওই পরমাণুটি তড়িৎগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তখন তাকে আর নিস্তড়িৎ পরমাণু বলা হয় না। তখন পরমাণুটি হয় তড়িৎগ্রস্থ। এই তড়িৎগ্রস্থ পরমাণুই হল আয়ন।

একটি নিস্তড়িৎ পরমাণুর প্রবণতা:
আমরা উপরের তালিকাতে দেখেছি, কোনও পরমাণুর বাইরের কক্ষপথটিতে \(8\) টি ইলেকট্রন হয়ে গেলেই, তার যোজ্যতা শূন্য হয়ে যায়। তবে ব্যাতিক্রম হয় কেবলমাত্র হিলিয়াম (\(He\)) পরমাণুর ক্ষেত্রে। হিলিয়াম পরমাণুর বাইরের কক্ষপথে (\(2\)) টি ইলেকট্রনেই নিষ্ক্রিয়তা লাভ করে এবং যোজ্যতা শূন্য হয়ে যায়। এখন এই মৌলগুলিকে নিষ্ক্রিয় মৌল বলা হয়।
নিষ্ক্রিয় মৌল অর্থাৎ যে রাসায়নিক ভাবে নিষ্ক্রিয় চরিত্রের হয়ে যায়। অর্থাৎ তখন এই মৌলগুলি আর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে না। এইরকম কয়েকটি মৌল হল:
হিলিয়াম (He): K(2)
নিয়ন (Ne): K(2), L(8)
আর্গন (Ar): K(2), L(8), M(8)
ক্রিপটন (Kr): K(2), L(8), M(18), N(8)
জেনন (Xe): K(2), L(8), M(18), N(18), O(8)
রেডন (Rn): K(2), L(8), M(18), N(32), O(18), P(8)

এই নিষ্ক্রিয় মৌলগুলি বাদে যতগুলি মৌল আছে, সবগুলিরই সবচেয়ে বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা \(8\) হয় না। এদের বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা হয় \(1,2,3,4,5,6,7\) । পরমাণুগুলির এই সক্রিয়তার মূলকারণ হল এই বাইরের কক্ষে থাকা ইলেকট্রনগুলি। এখন এই পরমাণুগুলি তাদের সর্বঃবহিস্থ এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ বা বর্জনের মাধ্যমে, পরমাণুটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করতে চায়।
যে সমস্ত পরমাণুগুলির বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যা \(1\), \(2\) বা, \(3\) হয়, তারা সাধারণত ইলেকট্রন বর্জনের মাধ্যমে খুব সহজেই তার বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন কাঠামোতে অষ্টকপূর্তি করে এবং নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করে। এই অবস্থায় পরমাণুটির নিউক্লিয়াসের ভিতরে প্রোটন সংখ্যার তুলনায়, ইলেকট্রন সংখ্যা কম হয়। তখন এই পরমাণু ধনাত্বক তড়িতগ্রস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু রাসায়নিক ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়।
আবার যে সমস্ত পরমাণুগুলির বাইরের কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যা \(5\), \(6\) বা, \(7\) হয়, তারা সাধারণত বাইরে থেকে ইলেকট্রন গ্রহনের মাধ্যমে খুব সহজেই তার বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন কাঠামোতে অষ্টকপূর্তি করে এবং নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করে।

যেমন:

পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ বা বর্জন আয়ন আয়নের প্রকৃতি
\(Na\left( {2,8,1} \right)\) \( - 1e\) \(N{a^ + }\left( {2,8} \right)\) নিয়নের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করলো, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় চরিত্রের হল এবং সোডিয়াম পরমাণুটি একটি ধনাত্বক আয়নে পরিণত হল।
\(Mg\left( {2,8,2} \right)\) \( - 2e\) \(M{g^{ + + }}\left( {2,8} \right)\) নিয়নের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করলো, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় চরিত্রের হল এবং ম্যাগনেশিয়াম পরমাণুটি একটি ধনাত্বক আয়নে পরিণত হল।
\(Al\left( {2,8,3} \right)\) \( - 3e\) \(A{l^{ + + + }}\left( {2,8} \right)\) নিয়নের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করলো, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় চরিত্রের হল এবং অ্যালুমিনিয়াম পরমাণুটি একটি ধনাত্বক আয়নে পরিণত হল।
\(P\left( {2,8,5} \right)\) \( + 3e\) \({P^{ - - - }}\left( {2,8,8} \right)\) আর্গনের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করলো, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় চরিত্রের হল এবং ফসফরাস পরমাণুটি একটি ঋনাত্বক আয়নে পরিণত হল।
\(S\left( {2,8,6} \right)\) \( + 2e\) \({S^{ - - }}\left( {2,8,8} \right)\) আর্গনের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করলো, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় চরিত্রের হল এবং সালফার পরমাণুটি একটি ঋনাত্বক আয়নে পরিণত হল।
\(Cl\left( {2,8,7} \right)\) \( + 1e\) \(C{l^ - }\left( {2,8,8} \right)\) আর্গনের ইলেকট্রন কাঠামো লাভ করলো, অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় চরিত্রের হল এবং ক্লোরিন পরমাণুটি একটি ঋনাত্বক আয়নে পরিণত হল।

এখানে দেখা গেল, যে সমস্ত পরমাণুগুলির বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা \(1\), \(2\) বা \(3\) হয়, তারা সবসময় বাইরের কক্ষ থেকে ইলেকট্রনকে ত্যাগ করে এবং ইলেকট্রন ত্যাগ করলেই তা সর্বদা ধনাত্বক আয়নে পরিণত হয়। এদের ক্যাটায়ন বলে। এবং এরা সবসময় ধাতু হয়। এই ধাতুরাই সর্বদা ইলেকট্রন ত্যাগ করে ক্যাটায়নে পরিণত হয়।

আবার যে সমস্ত পরমাণুগুলির বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা \(5\), \(6\) বা \(7\) হয়, তারা সবসময় বাইরের কক্ষে, বাইরে থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন গ্রহণ করলেই তা সর্বদা ঋনাত্বক আয়নে পরিণত হয়। এদের অ্যানায়ন বলে। এবং এরা সবসময় অধাতু হয়। এই অধাতুরাই সর্বদা ইলেকট্রন গ্রহণ করে অ্যানায়নে পরিণত হয়।

আয়ন (Ions):
ধনাত্বক বা ঋনাত্বক তড়িৎগ্রস্থ পরমাণুকে আয়ন বলে।
যেমন: \(N{a^ + }\), \(C{a^{ + + }}\), \(C{l^ - }\), \({S^ = }\) ইত্যাদি।

ক্যাটায়ন (Cation):
কোনও পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষপথ থেকে ইলেকট্রন বর্জনের ফলে সৃষ্ট ধনাত্বক তড়িৎগ্রস্থ পরমাণু বা আয়নকে ক্যাটায়ন বলে।
যেমন: \(N{a^ + }\), \(C{a^{ + + }}\) ইত্যাদি

অ্যানায়ন (Anion):
কোনও পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষপথে ইলেকট্রন গ্রহণের ফলে সৃষ্ট ঋনাত্বক তড়িৎগ্রস্থ পরমাণু বা আয়নকে অ্যানায়ন বলে।
যেমন: \(C{l^ - }\), \({S^ = }\) ইত্যাদি।

নিম্নে কয়েকটি আয়ন তৈরির কৌশলের উদাহরন দেওয়া হল:
(1) \(H - 1e \to {H^ + }\)
(2) \(H + 1e \to {H^ - }\)
(3) \(Li - 1e \to L{i^ + }\)
(4) \(Be - 2e \to B{e^{ + + }}\)
(5) \(B - 3e \to {B^{ + + + }}\)
(6) \(N + 3e \to {N^{ - - - }}\)
(7) \(O + 2e \to {O^{ - - }}\)
(8) \(F + 1e \to {F^ - }\)
(9) \(Na - 1e \to N{a^ + }\)
(10) \(Mg - 2e \to M{g^{ + + }}\)
(11) \(Al - 3e \to A{l^{ + + + }}\)
(12) \(P + 3e \to {P^{ - - - }}\)
(13) \(S + 2e \to {S^{ - - }}\)
(14) \(Cl + 1e \to C{l^ - }\)
(15) \(K - 1e \to {K^ + }\)
(16) \(Ca - 2e \to C{a^{ + + }}\)

Atom & Molecule Part: 1

Atom & Molecule Part: 2

Atom & Molecule Part: 3

Atom & Molecule Part: 4

Atom & Molecule Part: 5

Atom & Molecule Part: 6
0

Saturday, July 7, 2018

Atom And Molecule || Class: 7 || Part: 1

Atom And Molecule
বিজ্ঞানের অগ্রগতির একদম প্রথম দিকে পরমাণু বা অণুর সম্পর্কে কোনো ধারণাই তখনকার বিজ্ঞানীদের ছিল না। যেকোনও মৌলের (পদার্থের) শেষ উৎস জানতে পরমাণুর ধারণার প্রথম কল্পনা করা হয় প্রায় খ্রীষ্টজন্মের কয়েক শতাব্দী পূর্বে প্রায় \(\left( {500BC} \right)\) তে। এই বিষয়ে ভারতীয় দার্শনিক মহর্ষি কণাদকে পরমাণুরর ধারণার প্রথম পথিকৃৎ হিসাবে মনে করা হয়। তাঁর মতে পরমাণু হল অস্থিত্ব আছে এমন কিছু যা চিরন্তন, অক্ষয় এবং অখন্ডনীয় এবং যার কোনও উৎস বা কারণ নেই। এই বিরাট বিশ্বসংস্থিতির মধ্যে কণামাত্র স্থানে এর অবস্থান এবং অতি সূক্ষ যা চোখে দেখা যায় না অথচ সমস্ত কিছুর সৃষ্টির মূলে রয়েছে এই পরমাণু।

ঋষি কণাদের এই ধারণাতে অবাক হয়েছিলেন ডেমোক্রিটাস (Democritus), লিউপ্পাস (Leuappus) ইত্যাদি গ্রীক দার্শনিকগণ। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁরা স্বীকার করে নেন। তাঁরা এই কণাগুলির প্রথম নামকরণ করেছিলেন 'atomos' যার গ্রীক ভাষার যার অর্থ হল 'not divisible'। এরপর বেশ কয়েক শতাব্দী কেটে যায়। কিন্তু পরমাণু সম্পর্কে কেউ কোনো ধারণা দিতে পারে নি। আর এই পরমাণুর চেয়ে ক্ষুদ্রতর কোনও কণার অস্থিত্বও জানা যায় নি।

এর পরে ইংরেজ বিজ্ঞানী জন ডালটন কয়েকদশক ধরে বিভিন্ন রাসায়নিক সংযোগ সংক্রান্ত বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে তিনি আভাস পেয়েছিলেন যে, পরমাণুর অস্থিত্ব আছে এবং তারা একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যুক্ত ও বিযুক্ত হয়। অবশেষে 1808 খ্রীষ্টাব্দে পরমাণুর বৈশিষ্ট্যগত একটি বাস্তবসম্মত তত্ত্বের উপস্থাপনা করেন, যা ডালটনের পরমাণুবাদ নামে পরিচিত। ডালটনের এই পরমাণুবাদই প্রথম পরমাণুর ধারণাকে দার্শনিক তত্ত্ব থেকে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় নিয়ে আসে।

ডালটনের পরমাণুবাদ (Dulton's Atomic Theory):
(1) প্রতিটি পদার্থ অসংখ্য অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণা দ্বারা গঠিত। এই কণাগুলির নাম হল পরমাণু বা অ্যাটম।
(2) একই মৌলিক পদার্থের পরমাণুগুলির আকার, আকৃতি, ভর ও অন্যান্য ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মে একইরকম হয়।
(3) বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের পরমাণুগুলির আকার, আকৃতি, ভর ও অন্যান্য ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মে বিভিন্ন রকমের হয়।
(4) রাসায়নিক বিক্রিয়ার দ্বারা পরমাণুকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।
(5) রাসায়নিক পরিবর্তনের সময় পরমাণুগুলি অখন্ড কণারূপে সরল অনুপাতে যুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে।

পরমাণু (Atom):
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য কণা যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাকে পরমাণু বলে। পরমাণুতে মৌলিক পদার্থের সব ধর্ম বজায় থাকে এবং পরমাণুর স্বাধীন অস্থিত্ব থাকতে পারে আবার নাও পারে।

তবে বর্তমানে পরমাণু আর অবিভাজ্য নয়। আবিস্কৃত হয়েছে যেকোনও পরমাণু আবার (i) ইলেকট্রন (ii) প্রোটন ও (iii) নিউট্রন নামে তিনটি কণা দিয়ে গঠিত। আর পরমাণু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহনও করে না। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে পরমাণুর মধ্যে থাকা ইলেকট্রন কণাগুলি।

পরমাণুকে প্রকাশ করার নিয়ম:
প্রাচীনকালের বিজ্ঞানীরা সেইসময় যতগুলো পরমাণুর সন্ধান পেয়েছিলেন, সেগুলোকে কতকগুলি জটিল চিত্র বা ছবির মাধ্যমে প্রথমে প্রকাশ করা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত আবিষ্কার হওয়া 92 টি মৌলকে এই নিয়মে প্রকাশ করা, লেখা বা মনে রাখাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তখন বিজ্ঞানী বার্জিলিয়াস এই মৌলগুলির পরমাণুগুলিকে সহজ প্রণালীতে প্রকাশ করার চিন্তাধারা দেন যা আজও আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য, তা হল পরমাণুগুলির চিহ্ন (Symbol)।

চিহ্ন (Symbol):
মৌলিক পদার্ধের নাম, যার দ্বারা সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়, তাকে চিহ্ন বলে। অর্থাৎ মৌলিক পদার্থের পরমাণুকে সংক্ষেপে প্রকাশ করাকেই চিহ্ন বলে।

চিহ্ন লেখার পদ্ধতি (Process To Write Symbol):
(1) সাধারণত মৌলিক পদার্থের ইংরাজী নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে পরমাণুগুলিকে প্রকাশ করা হয়। যেমন:

মৌলের নাম চিহ্ন (Symbol)
বোরন (Boron) B
কার্বন (Carbon) C
নাইট্রোজেন (Nitrogen) N
হাইড্রোজেন (Hydrogen) H
অক্সিজেন (Oxygen) O
সালফার (Sulphur) S

(2) একই প্রথম অক্ষরবিশিষ্ট একাধিক মৌল থাকলে, তখন ওই প্রথম অক্ষরটির সঙ্গে পরের অক্ষরটি বা প্রথম অক্ষরের সঙ্গে জোরে উচ্চারিত অক্ষরটি যোগ করে, মৌলটির চিহ্ন প্রকাশ করা হয়। যেমন:

মৌলের নাম চিহ্ন (Symbol)
ক্যালশিয়াম (Calcium) Ca
ব্রোমিন (Bromine) Br
বিসমাথ (Bismuth) Bi
বেরিয়াম (Barium) Ba
বেরিলিয়াম (Berillium) Be
বার্কেলিয়াম (Barkelium) Bk
ক্যাডমিয়াম (Cadmium) Cd
সিজিয়াম (Cesium) Cs
ক্লোরিন (Chlorine) Cl
ক্রোমিয়াম (Chromium) Cr

(3) কিছু মৌলের পরমাণুর নাম ল্যাটিন ভাষা অনুসারে প্রথম অক্ষরটি বা পরপর দুটি অক্ষর বা প্রথম অক্ষরের সাথে জোরে উচ্চারিত অক্ষরদুটি মিলিয়ে মৌলটির চিহ্ণ প্রকাশ করা হয়। যেমন:

মৌলের নাম চিহ্ন (Symbol)
সোডিয়াম (Natrium) Na
পটাশিয়াম (Kalium) K
আয়রন বা লোহা (Ferrum) Fe
লেড বা সীসা (Plumbum) Pb
স্ট্যানাম বা টিন (Stannum) Sn
সিলভার বা রূপা (Argentum) Ag
গোল্ড বা সোনা (Aurum) Au
কপার বা তামা (Cuprum) Cu
মার্কারী বা পারদ (Hydragyrum) Hg

(4) চিহ্ণ লিখতে গেলে সবসময় বড় হাতের অক্ষরে () লিখতে হয়। আর চিহ্নটি যদি দুটি অক্ষরের হয় তাহলে প্রথমটি বড় হাতের () ও পরের অক্ষরটি ছোটো হাতের () লিখতে হয়। যেমন

ভূল লেখা: সঠিক লেখা:
কার্বন (c) কার্বন (C)
নাইট্রোজেন (n) নাইট্রোজেন (N)
সোডিয়াম (So) সোডিয়াম (Na)
সোডিয়াম (NA) সোডিয়াম (Na)
সোডিয়াম (na) সোডিয়াম (Na)
ক্লোরিন (CL) ক্লোরিন (Cl)

পূর্বেই বলা হয়েছে মৌলিক পদার্থের পরমাণুর স্বাধীন অস্থিত্ব থাকতে পারে আবার নাও পারে। যেমন, আয়রণ (\(Fe\)), পটাশিয়াম (\(K\)), ক্যালশিয়াম (\(Ca\)), ম্যাগনেশিয়াম (\(Mg\)) ইত্যাদি কিছু কিছু মৌলের পরমাণু আছে যাদের স্বাধীন অস্থিত্ব আছে। কিন্তু হাইড্রোজেন (\(H\)), অক্সিজেন (\(O\)), নাইট্রোজেন (\(N\)) এইরকম অসংখ্য মৌল আছে যাদের পরমাণুর কোনো স্বাধীন সত্ত্বা বা স্বাধীন অস্থিত্ব নেই। এদের ক্ষেত্রে কি হয়?
এরা সবসময় দুই বা ততোধিক একই বা ভিন্ন মৌলের পরমাণু একসাথে জোড় বেঁধে অবস্থান করে। যেমন,
হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণু একসাথে জোড় বেঁধে একটি যৌগিক পরমাণু তৈরি করে। তেমনি
অক্সিজেনেরও দুটি পরমাণু একসাথে জোড় বেঁধে একটি যৌগিক পরমাণু তৈরি করে, তেমনি
নাইট্রোজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন সবাই দুটি করে পরমাণু একসাথে জোড় বেঁধে যৌগিক পরমাণু তৈরি করে।
সবক্ষেত্রে আবার দুটি নয়, যেমন অক্সিজেনের তিনটি পরমাণু একসাথে জোড় বেঁধে স্বাধীনভাবে থাকতে পারে, ফসফরাসের চারটি পরমাণু একসাথে জোড় বেঁধে স্বাধীনভাবে থাকতে পারে আবার সালফারের আটটি পরমাণু একসাথে জোড় বেঁধে স্বাধীনভাবে থাকতে পারে।
আবার সবসময় যে একই মৌলের পরমাণুই একসাথে জোড় বেঁধে স্বাধীনভাবে অবস্থান করবে তা নয়। যেমন, হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণু এবং অক্সিজেনের একটি পরমাণু মিলে জলের একটি যৌগিক পরমাণু গঠন করে স্বাধীনভাবে থাকে।
কার্বনের একটি পরমাণু এবং অক্সিজেনের দুটি পরমাণু মিলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের একটু যৌগিক পরমাণু গঠন করে স্বাধীনভাবে থাকে।
তখন এদেরকে আর পরমাণু বা যৌগিক পরমাণু বা পরমাণুর সমষ্টি বলা হয় না। তখন এদের বলা হয় অণু। অর্থাৎ অণুর সবসময় স্বাধীন সত্ত্বা বা স্বাধীন অস্থিত্ব থাকবেই।
এই অণু সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দেন বিজ্ঞানী অ্যামোদিও অ্যাভোগাড্রো।
তাই এখানে পরমাণুর ধারণার পথিকৃৎ জন ডালটন হলেও অণুর ধারণা কিন্তু সর্বপ্রথম দেন বিজ্ঞানী অ্যামোদিও অ্যাভোগাড্রো। তাই অণুর সংজ্ঞায় বলা যায় -

অণু (Molecule):
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম যে কণা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে এবং যার মধ্যে পদার্থটির সমস্ত ধর্ম বজায় থাকে, তাকে অণু বলে।
যেমন.
একটি অক্সিজেন অণু, দুটি অক্সিজেন পরমাণু (\(O\))নিয়ে গঠিত। তাই অক্সিজেন অণুকে লেখা হয় \({O_2}\) দ্বারা।
একটি হাইড্রোজেন অণু, দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু (\(H\)) দ্বারা গঠিত। তাই হাইড্রোজেন অণুকে লেখা হয় \({H_2}\) দ্বারা।
একটি জলের অণু, দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু (\(H\)) এবং একটি অক্সিজেন পরমাণু (\(O\)) দ্বারা গঠিত। তাই জলের অণুকে লেখা হয় \({H_2}O\) দ্বারা।
একটি ওজোনের অণু, তিনটি অক্সিজেন পরমাণু (\(O\)) পরমাণু দ্বারা গঠিত। তাই একটি ওজোন অণুকে লেখা হয় \({O_3}\) দ্বারা।
একটি কার্বন ডাইঅক্সাইডের অণু, দুটি কার্বন পরমাণু (\(C\)) এবং দুটি অক্সিজেন পরমাণু (\(O\)) পরমাণু দ্বারা গঠিত। তাই একটি কার্বন ডাইঅক্সাইডের অণুকে লেখা হয় \(C{O_2}\) দ্বারা।

মৌলিক অণু:
কোনও অণু, একই প্রকার পরমাণু নিয়ে গঠিত হলে, তাদের মৌলিক অণু বলে।
যেমন,
(i) একটি হাইড্রোজেন অণু, দুটিই হাইড্রোজেন পরমাণু \(\left( H \right)\) দ্বারা গঠিত। তাই একটি হাইড্রোজেন অণুকে লেখা হয় \({H_2}\)।
(ii) একটি অক্সিজেন অণু , দুটিই অক্সিজেন পরমাণু \(\left( O \right)\) দ্বারা গঠিত। তাই একটি অক্সিজেন অণুকে লেখা হয় \({O_2}\)।
(iii) একটি ক্লোরিন অণু, দুটিই ক্লোরিন পরমাণু \(\left( {Cl} \right)\) দ্বারা গঠিত। তাই একটি ক্লোরিন অণুকে লেখা হয় \(C{l_2}\)।
(iv) একটি ওজোন অণু, তিনটিই অক্সিজেন পরমাণু \(\left( O \right)\) পরমাণু দ্বারা গঠিত। তাই একটি ওজোন অণুকে লেখা হয় \({O_3}\)।
এই অণুগুলি একই ধরণের পরমাণু দিয়ে গঠিত হওয়ায় এরা সবাই মৌলিক অণু। কয়েকটি মৌলিক অণুর নাম নীচে দেওয়া হল।
\({H_2}\), \({O_2}\), \({N_2}\), \(C{l_2}\), \({O_3}\), \(B{r_2}\), \({F_2}\), \({P_4}\), \({S_8}\), \(Na\), \(K\), \(Mg\), \(He\), \(Ne\) এগুলি সবই মৌলিক অণু।

যৌগিক অণু:
কোনও অণু, বিভিন্ন রকমের পরমাণু দ্বারা গঠিত হলে, তাকে যৌগিক অণু বলে।
যেমন,
(i) একটি জলের অণু দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু \(\left( H \right)\) এবং একটি \(\left( O \right)\) পরমাণু নিয়ে গঠিত। তাই জলের অণুকে লেখা হয় \({H_2}O\)।
(ii) একটি কার্বন ডাইঅক্সাইডের অণু, কার্বনের একটি পরমাণু \(\left( C \right)\) এবং অক্সিজেনের দুটি পরমাণু \(\left( O \right)\) নিয়ে গঠিত। তাই কার্বন ডাইঅক্সাইডের অণুকে লেখা হয় \(C{O_2}\)।
(iii) একটি অ্যামোনিয়ার অণু, একটি নাইট্রোজেনের পরমাণু \(\left( N \right)\) এবং তিনটি হাইড্রোজেন পরমাণু \(\left( H \right)\) দ্বারা গঠিত। তাই অ্যামোনিয়ার অনুকে লেখা হয় \(N{H_3}\) দ্বারা।
(iv) একটি সালফিউরিক অ্যাসিডের অণু, দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু (\(H\)), একটি সালফার পরমাণু (\(S\)) এবং চারটি অক্সিজেন পরমাণু (\(O\)) নিয়ে গঠিত। তাই একটি সালফিউরিক অ্যাসিডের অণুকে লেখা হয় \({H_2}S{O_4}\)।

এই অণুগুলি বিভিন্ন রকমের পরমাণু দিয়ে গঠিত হওয়ায় এরা সবাই যৌগিক অণু। কয়েকটি যৌগিক অণুর নাম নীচে দেওয়া হল:
(1) জলের অণু (\({H_2}O\)), (2) কার্বন ডাইঅক্সাইডের অণু (\(C{O_2}\)), (3) অ্যামোনিয়ার অণু (\(N{H_3}\)), (4) হাইড্রোজেন সালফাইডের অণু (\({H_2}S\)), (5) সালফিউরিক অ্যাসিডের অণু (\({H_2}S{O_4}\)), (6) নাইট্রিক অ্যাসিডের অণু (\(HN{O_3}\)), (7) হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের অণু (\(HCl\)), (8) সোডিয়াম হাইড্রক্সাইডের অণু (\(NaOH\)), (9) ফসফরাস ট্রাইক্লোরাইডের অণু (\(PC{l_3}\)), (10) ফসফরাস পেন্টাক্লোরাইডের অণু (\(PC{l_5}\)) ইত্যাদি - এরা সবাই যৌগিক অণু।

পারমাণবিকতা (Atomicity):
কোনও মৌলের একটি অণু (মৌলিক অণু), যতগুলি পরমাণু নিয়ে গঠিত হয়, সেই সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিকতা বলে। যেমন:
পারমাণবিকতা (Atomicity): উদাহরণ:
1 সোডিয়াম (\(Na\)), পটাশিয়াম (\(K\)), ক্যালশিয়াম (\(Ca\)), ইত্যাদি ধাতু এবং হিলিয়াম (\(He\)), নিয়ন (\(Ne\)), আর্গন (\(Ar\)) ইত্যাদি মৌলের অণু কেবলমাত্র একটি পরমাণু দিয়ে গঠিত হয়, তাই এদের পারমাণবিকতা (Atomicity) হল 1। তাই এদের ক্ষেত্রে পরমাণু ও অণু সমার্থক।
2 হাইড্রোজেন (\({H_2}\)), অক্সিজেন (\({O_2}\)), নাইট্রোজেন (\({N_2}\)), ক্লোরিন (\(C{l_2}\)), ব্রোমিন (\(B{r_2}\)), ফ্লোরিন (\({F_2}\)) ইত্যাদি মৌলের অণুগুলি দুটি করে পরমাণু দিয়ে গঠিত। তাই এদের পারমাণবিকতা (Atomicity) হল 2।
3 একটি ওজোন অণু (\({O_3}\)), তিনটি অক্সিজেন পরমাণু নিয়ে গঠিত। তাই ওজোন অণুর (\({O_3}\)) পারমাণবিকতা (Atomicity) হল 3।
4 একটি ফসফরাসের অণু (\({P_4}\)), চারটি ফসফরাসের পরমাণু নিয়ে গঠিত। তাই একটি ফসফরাস অণুর (\({P_4}\)) পারমাণবিকতা (Atomicity) হল 4।
8 একটি সালফারের অণু (\({S_8}\)), আটটি সালফারের পরমাণু নিয়ে গঠিত। তাই একটি সালফার অণুর (\({S_8}\)) পারমাণবিকতা (Atomicity) হল 8।

অণুকে লেখার পদ্ধতি বা অণুকে প্রকাশ করার নিয়ম:
কোনো মৌলিক পদার্থের পরমাণুকে প্রকাশ করার জন্য যেমন কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়, তেমনি কোনও মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের অণুকেও সংক্ষেপে প্রকাশ করতে গেলে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। আমরা পূর্বেই দেখেছি এখানে মৌলিক অণুকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার নিয়ম খুব সহজ। ওই মৌলিক অণুটি, ঠিক কতগুলি পরমাণু দ্বারা গঠিত তা পরমাণুটির চিহ্ন প্রথমে লিখে তারপর Subscript হিসাবে ওই পরমাণুর সংখ্যাটিকে লিখতে হয়। অর্থাৎ ওই পরমাণুর চিহ্নটির ডানদিকে একটু নীচে করে পরমাণুর সংখ্যাটিকে সবাতে হয়। যেমন: \({H_2}\), \({O_2}\), \(C{l_2}\), \({O_3}\), \({P_4}\) ইত্যাদি। তখন এদেরকে মৌলিক পদার্থের সংকেত (Formula) বা মৌলিক অণুগুলির সংকেত (Formula) বলে। তখন আর এদের চিহ্ন (Symbol) বলে না।

কিন্তু যৌগিক পদার্থের অণুগুলির সংকেত (Formula) লেখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিল নিয়ম মানতে হয়। আমরা প্রথমে একটি পরমাণুর গঠন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেওয়ার পর যৌগিক পদার্থের অণুর সংকেত লেখার নিয়ম শিখবো।



Atom & Molecule Part: 1

Atom & Molecule Part: 2

Atom & Molecule Part: 3

Atom & Molecule Part: 4

Atom & Molecule Part: 5

Atom & Molecule Part: 6
0